ফেনী নদীর তীব্র স্রোতে ভেঙে পড়ছে নদীর তীর সংরক্ষণে নির্মিত কংক্রিটের ব্লক। একের পর এক ব্লক নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার দারোগাপাড়া এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙনের নতুন আশঙ্কা। দুই যুগের বেশি সময় ধরে নদীর পাড় সংরক্ষণ ও সংস্কার না করায় নদীর কাছাকাছি থাকা বসতবাড়ি, চলাচলের সড়ক ও সরকারি স্থাপনাও এখন ঝুঁকিতে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সম্প্রতি ভাঙন বেড়েছে। নদীর তীর সংরক্ষণে দেওয়া কংক্রিটের ব্লকের বিভিন্ন অংশ ইতিমধ্যে ধসে নদীতে পড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রামগড় পৌরসভার দারোগাপাড়া, ফেনীরকুল, অফিসটিলা ও বল্টুরামটিলা এলাকার নদীর পাড়ের বিভিন্ন অংশে কংক্রিটের ব্লক ধসে পড়েছে। এতে এসব এলাকার নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, সড়ক ও সরকারি স্থাপনায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
দারোগাপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, ফেনী নদীর ভাঙন দিন দিন আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। নদীর তীরের সুরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বসতবাড়ি ও যোগাযোগব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন ইউএনও। ১৯ আগস্ট দেওয়া ওই চিঠিতে দারোগাপাড়া এলাকায় ফেনী নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী দেবাংশু চাকমা বলেন, ‘এই সীমান্ত নদীটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখা দিয়ে প্রবাহিত। এখানে নদী সংরক্ষণকাজ করতে হলে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্মতি প্রয়োজন। তাই এ ধরনের কাজ করতে সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’
দারোগাপাড়ার বাসিন্দা দিদার চৌধুরী বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও তীব্র হয়। এখন যেভাবে নদীর তীর ভাঙছে, তাতে বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনের কারণ ও ঝুঁকি নিরূপণ করুক। একই সঙ্গে নদীতীর রক্ষায় স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
কেএস/আরএন