প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয় বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর একটি দৃশ্য। ক্যাম্পাসের কংক্রিটের দেয়ালে লেখা একটি তারিখ- ‘৫ সেপ্টেম্বর’। সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এটি ‘সাইলেন্সার’ ওরফে চতুর রামালিঙ্গমের সেই বিখ্যাত চ্যালেঞ্জের স্মারক। তবে এই তারিখের পেছনে রয়েছে ভারতের শিক্ষক দিবসের ইতিহাস এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে নির্মাতাদের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তাও।
২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া রাজকুমার হিরানি পরিচালিত ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ অমি বৈদ অভিনীত চতুর রামালিঙ্গম ছিল মুখস্থবিদ্যা ও অন্ধ প্রতিযোগিতার প্রতীক। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে ডিন ‘ভাইরাস’-কে খুশি করতে সে হিন্দিতে একটি দীর্ঘ ভাষণ মুখস্থ করে উপস্থাপন করতে যায়। কিন্তু র্যাঞ্চোর কৌশলে ভাষণের কয়েকটি শব্দ বদলে যাওয়ায় পুরো মিলনায়তনের সামনে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে চতুর।
এই অপমানের পর র্যাঞ্চো ও তার বন্ধুদের ১০ বছর পর একই দিনে, অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর, আবার ক্যাম্পাসে দেখা করার চ্যালেঞ্জ দেয় চতুর। সেই প্রতিশ্রুতির স্মৃতি ধরে রাখতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে ৫ সেপ্টেম্বর তারিখটি লিখে রাখে সে। এরপর থেকেই সিনেমার দর্শকদের কাছে দিনটি একটি প্রতীকী মুহূর্তে পরিণত হয়েছে।
তবে সিনেমায় এই তারিখটি বেছে নেওয়ার কারণও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতে প্রতিবছর ৫ সেপ্টেম্বর স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি ও দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন উপলক্ষে শিক্ষক দিবস পালিত হয়।
১৯৬২ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা তাঁর জন্মদিন উদযাপন করতে চাইলে তিনি ব্যক্তিগত জন্মদিন পালনের পরিবর্তে দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। সেই ঐতিহ্য আজও ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুসরণ করা হচ্ছে।
সিনেমা বিশ্লেষকদের মতে, ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ওই দৃশ্য শুধু হাস্যরস তৈরির জন্য নয়; বরং মুখস্থনির্ভর শিক্ষা, নম্বরকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা এবং সৃজনশীলতার সংকটকে তুলে ধরার একটি শক্তিশালী প্রতীক।
মুক্তির প্রায় ১৭ বছর পরও ৫ সেপ্টেম্বর এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই দেয়ালের ছবি ও ‘সাইলেন্সার’-এর দৃশ্য নতুন করে আলোচনায় আসে। এ কারণেই একটি সাধারণ তারিখ সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা, প্রতিযোগিতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে আলোচনার অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
-টিএস