বিশ্বের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আজ বিশেষ দিন শুভ জন্মাষ্টমী। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাণী দেন তারা।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বাণীতে বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব। শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন পরোপকারী, দক্ষ রাজনীতিক ও সমাজসংস্কারক। সত্য, ন্যায় ও মানব কল্যাণের প্রতীক হয়ে তিনি পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা যুগ যুগ ধরে মানুষকে মানবিক ও সহমর্মী হতে প্রেরণা জুগিয়ে আসছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ আবহমানকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। অসাম্প্রদায়িকতা ও ঐক্যবোধই আমাদের সংস্কৃতির মূল শক্তি। বিশ্বের নানা প্রান্তে ধর্মীয় সংঘাত ও বিভেদ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি সকলকে ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। শ্রীকৃষ্ণের দর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, “বিশ্বের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ দিন শুভ জন্মাষ্টমী। এই শুভ দিনে আমি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।”
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে তারেক রহমান বলেন, “শ্রীকৃষ্ণের বার্তা ও শিক্ষা সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। আসুন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”
কেউ যেন সম্প্রীতির পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমাজে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
শ্রীকৃষ্ণের মহতী দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শ্রীকৃষ্ণ তাঁর জীবন ও কাজের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়, সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় মানবপ্রেমের অনন্য আদর্শ তুলে ধরেছেন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভক্তি, মানবকল্যাণ ও শান্তির যে দর্শন তিনি প্রচার করেছেন, তা সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব মানুষের জন্যই গভীর প্রেরণাদায়ক।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “একটি সুশীল রাষ্ট্র ও সমাজে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের মেলবন্ধন থাকে। বাংলাদেশেও যুগ যুগ ধরে সর্বস্তরের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। এই আবহমান সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব।”
সনাতন ধর্মমতে, সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্রানুসারে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ধরাধামে আগমন ঘটে অবতার শ্রীকৃষ্ণের। হিন্দু পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের পাপাচার যখন চরমে পৌঁছায়, ঠিক সেই সময় তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে অত্যাচারী কংসকে নিধন করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’ই ছিল শ্রীকৃষ্ণের মূল ব্রত।
এফএস