গ্যাসের সংকট, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য এবং ডিজেল জেনারেটরের বাড়তি খরচে দেশের শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলারের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গত দুই বছরে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এর বড় অংশই রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায়। গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও কম হওয়ায় শিল্প উদ্যোক্তারা এদিকে ঝুঁকছেন।
শিল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গ্রিডের বিদ্যুতের সর্বোচ্চ দাম প্রতি ইউনিট প্রায় ১১ টাকা ৫৬ পয়সা। বিপরীতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে ক্যাপেক্স মডেলে ইউনিটপ্রতি খরচ ৪ থেকে সাড়ে ৪ টাকা, আর অপেক্স মডেলে ৭ থেকে ৮ টাকা। ফলে বিদ্যুৎ ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হচ্ছে।
বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াচ্ছে। একটি শিল্পগোষ্ঠীর ২০টি কারখানায় বর্তমানে ৩৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াটের বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে। আরেকটি শিল্পগোষ্ঠীর বিভিন্ন কারখানায় প্রায় ৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে; আরও ২৮ মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।
এ ছাড়া প্রায় ১০০টি শিল্পকারখানার ছাদে ১৩০ থেকে ১৪০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। আরও ১২টি কারখানায় প্রায় ২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের খরচও আগের তুলনায় কমেছে। পাঁচ বছর আগে ছাদে প্রতি মেগাওয়াট স্থাপনে ব্যয় হতো প্রায় ৫ কোটি টাকা, বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৪ কোটি টাকায়। একই ক্ষমতার জমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে খরচ প্রায় ৮ কোটি টাকা।
তবে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এখনো বড় বাধা। শিল্পসংশ্লিষ্টরা সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি আমদানিতে কর-সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পসুদের ঋণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অর্থায়ন সহজ হলে মাঝারি ও ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোরও সৌরবিদ্যুতে যাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
বর্তমানে দেশের মোট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা ১,৮৫০.০১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১,৫৫৬.৯২ মেগাওয়াট।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে শিল্পকারখানার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এফএস