পূর্ব সুন্দরবনে চার দিন ধরে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য পর্যটন কেন্দ্রের টেলিটক টাওয়ারের দুটি জেনারেটর বিকল হয়ে পড়ায় সুন্দরবনের তিনটি স্থানে স্থাপিত টেলিটকের তিনটি টাওয়ারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পুরো সুন্দরবন এলাকায় মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক, মৎস্যজীবী ও বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে পর্যটন ও মাছ ধরার কার্যক্রম শুরু হলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভির হাসান ইমরান জানান, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) হঠাৎ করে কটকায় অবস্থিত টেলিটক টাওয়ারের দুটি জেনারেটর বিকল হয়ে যায়। এর ফলে কটকা টাওয়ারের আওতাধীন দুবলার আলোরকোল ও অফিসকিল্লা এলাকায় স্থাপিত আরও দুটি টেলিটক টাওয়ারও অকার্যকর হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কটকাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে আসা পর্যটকেরা। একই সঙ্গে সাগর ও সুন্দরবনে মাছ ধরায় নিয়োজিত হাজার হাজার জেলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, টেলিটকের নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের কারণে গত চার দিন ধরে জেলে, পর্যটক ও বন বিভাগের সদস্যরা দুর্ভোগে রয়েছেন। বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছুদিন পরপরই সুন্দরবনে এ ধরনের নেটওয়ার্ক বিপর্যয় দেখা দেয়, যা জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে টেলিটকের খুলনা বিভাগীয় ইনচার্জ মো. নূর আলম বলেন, কটকার টেলিটক টাওয়ারের দুটি জেনারেটর একসঙ্গে বিকল হওয়ার বিষয়টি তারা জেনেছেন। দ্রুত জেনারেটর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
এমআর/আরএন