প্রশাসনের আশ্বাসে জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুর জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত শুভ বাস ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এরপর জামালপুরের সঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বাসচালকদের নিরাপত্তাহীনতা, বাস ভাঙচুর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে জামালপুর-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি। এতে জামালপুরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার বাস যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে বাস মালিক সমিতির নেতারা ও সাধারণ বাসশ্রমিকরা তাদের দাবির বিষয়ে আলোচনা করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। এ সময় রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া গতিতে চলাচল বন্ধ, বাস সার্ভিসের মান উন্নয়ন, যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ রুটে কঠোর তদারকির দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
বাস মালিক সমিতির সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশের সময় মূল ফটকের সামনে মালিক সমিতির সদস্যদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বাস মালিক সমিতির সদস্যরা কার্যালয়ের সভাকক্ষে গিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। অন্যদিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা জামালপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
বৈঠকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাস মালিক সমিতির দাবিগুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় মালিক সমিতি। একই সময়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার পর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থেকে অবস্থান কর্মসূচিও তুলে নেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এরপর জামালপুরের সঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জামালপুর জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত শুভ বলেন, “আমরা আমাদের দাবিগুলো নিয়ে ডিসি স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাদের কথা শুনেছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর আমরা বাস পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে হাতাহাতির বিষয়ে তিনি বলেন, “ওই ঘটনায় আমাদের কোনো দোষ নেই। তারা আমাদের দেখে উসকানিমূলক স্লোগান দেয়। পরে সাধারণ শ্রমিকরা তাদের প্রতিহত করে।”
জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ কে এম আব্দুল্লাহিল রশিদ বলেন, “বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি। দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।”
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর বিকেল থেকে জামালপুরের সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল আবারও স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়।
এলএইচ/আরএন