কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার (৬) নামে এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আদালতের নির্দেশে ১৭ দিন পর কবর থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ চুনারচর গ্রামের চুনারচর কবরস্থান থেকে শিশুটির মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আয়েশা আক্তার দক্ষিণ চুনারচর গ্রামের প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট দুপুরে দক্ষিণ চুনারচর গ্রামের একটি দোকানের পেছনের ঝোপ থেকে উলঙ্গ অবস্থায় আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত তাকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে শিশুটির পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও মরদেহ উদ্ধারের স্থান, পোশাকহীন অবস্থায় পাওয়া এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে শিশুটির বাবা মো. জাকির হোসেন হোমনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তার আশঙ্কা, আয়েশাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও হোমনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মেদ মোফাচ্ছের বলেন, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে শিশুটির মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিশুটির পানিতে পড়ে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
কেএইচ/আরএন