ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
১.৫ ডিগ্রির লড়াই মানবতার ভবিষ্যতের লড়াই: গুতেরেস
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
X
Advertisement

বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর কীভাবে আবার সেই সীমার নিচে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, সে বিষয়ে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) বলেছে, বিশ্ব ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করবে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো এই ‘ওভারশুট’ যতটা সম্ভব স্বল্প সময়ের জন্য রাখা এবং এর ক্ষতি সীমিত করা।

ইউএনইপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে গেলে চরম আবহাওয়া আরও তীব্র হতে পারে। একই সঙ্গে বরফের স্তর ধসে পড়া ও প্রবালপ্রাচীর হারিয়ে যাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ২০১৫ সালে প্রায় ২০০টি দেশ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

প্রতিবেদনের সহলেখক ও এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী রিচার্ড বেটস বলেন, “এটি বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার সময়। আমাদের এই উষ্ণতর বিশ্বের সঙ্গে বসবাস করতে হবে... তবে উষ্ণতা বৃদ্ধি সীমিত রাখতে আমরা এখনও অনেক কিছু করতে পারি।” তিনি বলেন, প্রতিবেদনটির উদ্দেশ্য শুধু পরিস্থিতি তুলে ধরা নয়, বরং এর বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটিও দেখানো।

আরেক সহলেখক ও ইউনিভার্সিটি অব কোয়াজুলু-নাটালের ডেবরা রবার্টস বলেন, নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে যে পরিস্থিতির নিয়মই এখন বদলে যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের এখন ১.৫ ডিগ্রি অতিক্রমের পথে জলবায়ু শাসনব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাতে হবে। আমাদের কোনো পরিকল্পনাই এর জন্য প্রস্তুত নয়।”

জাতিসংঘের প্রতিবেদনের ভাষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জলবায়ুকর্মীরা। গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি প্রোগ্রাম পরিচালক জ্যাসপার ইনভেন্টর বলেন, “এটি হৃদয়বিদারক মুহূর্ত, কিন্তু ১.৫ ডিগ্রি অতিক্রম করা মানে হাল ছেড়ে দেওয়া বা আত্মসমর্পণ করা নয়।”

জলবায়ুবিজ্ঞানী ও ক্লাইমেট অ্যানালিটিকসের প্রধান নির্বাহী বিল হেয়ার প্রতিবেদনটির সমালোচনা করে বলেন, এটি “লড়াইয়ের আহ্বানের পরিবর্তে উদাসীনতার আহ্বান” হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ঝুঁকিতে থাকা ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য ধরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তারা ধনী দেশগুলোকে এই লক্ষ্য পরিত্যাগ না করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্ব ইতোমধ্যে ১৮৫০-১৯০০ সালের তুলনায় প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোই এর প্রধান কারণ। আর রেকর্ড অনুযায়ী, গত তিন বছর ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ তিন বছর।

ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন বলেন, “আমরা যদি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকি, তাহলে কোনো ভালো ফলাফল নেই।” তিনি বলেন, “১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য এখনও আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু এখন আমাদের এটিকে ভিন্নভাবে মোকাবিলা করতে হবে—ওপর থেকে নিচের দিকে।”

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বলেছেন, শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণতা আবার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, “১.৫ ডিগ্রির জন্য লড়াই হলো মানবতার জন্য লড়াই।”

ইউএনইপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ লক্ষ্য অর্জনে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ গুরুত্বপূর্ণ হবে। এর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন অপসারণ করে তা সংরক্ষণ করা হয়। তবে এর পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দ্রুত ও ব্যাপকভাবে কমাতে হবে।

কার্বন অপসারণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করেছেন জলবায়ুকর্মীরা। ক্যাম্পেইন সংগঠন সিআইইএলের লিলি ফুর বলেন, “ক্ষতি কমানোর একমাত্র উপায় হলো এখনই নিঃসরণ কমানো... অনুমাননির্ভর প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে পদক্ষেপ বিলম্ব করা নয়।”

এসএফ 
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement