ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং শত শত বিদেশি নিখোঁজ হওয়ার পরও পর্যটকদের নেপাল ভ্রমণে নিরুৎসাহিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। পর্যটনমন্ত্রী খড়গ রাজ পাওদেল বলেছেন, দেশের অনেক পর্যটন এলাকা এখনো নিরাপদ ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পাহাড়ি পথ ও ট্রেকিং রুটগুলো এখনো আপনাদের অপেক্ষায়।’ তিনি পর্যটকদের নেপাল ভ্রমণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই সময়ে নেপালে আসা শুধু ছুটি কাটানোর বিষয় নয়, ভয়াবহ দুর্যোগে লড়াই করা দেশটির জন্য এটি বড় ধরনের সহায়তা।
পর্যটনমন্ত্রী তার বার্তায় '#নেপাল কলিং' হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন।
গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাম, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়েছে। এতে দেশটির পর্যটনশিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন অনেক পর্যটন এলাকাও স্বাভাবিক রয়েছে, দুর্যোগের ভয়াবহ ছবি ও প্রাণহানির খবরের কারণে বিদেশি পর্যটকেরা নেপাল ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে সরকার।
দুর্যোগের কারণে এরই মধ্যে দেশটির অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির উচ্চমূল্য, পর্যটন খাতে দুর্বলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার মধ্যে নেপালকে এখন বড় ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রম চালাতে হবে।
গত সপ্তাহে হিমবাহ ধসে বরফ, কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোত একটি উপত্যকায় নেমে আসে। এতে পথে থাকা বসতি, সড়ক ও সেতু ভেসে যায়। বিভিন্ন ভিডিওতে মানুষকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে এবং পানির স্রোতে ভবন, বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ, পাথর ও যানবাহন ভেসে যেতে দেখা গেছে।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯টি দেশের প্রায় ৫৯০ জন বিদেশি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত দুর্যোগে নেপালে অন্তত ১ হাজার ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে নেপাল, ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। কয়েক শ শ্রমিক এখনো বিভিন্ন টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা একটি টানেলের ওপরের অংশে পৌঁছেছেন। এখন তারা পাওয়ারহাউসের ওপর থেকে নিচের দিকে খনন করে আটকে পড়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এখনো তাঁদের আশা শেষ হয়ে যায়নি।
দুর্যোগে নেপালের অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নেপালের ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, নুওয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা বিবেচনায় পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের জন্য নেপালের উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন হবে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘নেপালের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও কঠিন সময়।’
এদিকে বন্যা ও ভূমিধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বিভিন্ন এলাকার মানুষকে হেলিকপ্টার ও অন্যান্য উড়োজাহাজের মাধ্যমে উদ্ধার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তীব্র এই দুর্যোগের মধ্যেও পর্যটকদের নেপাল ভ্রমণের আহ্বান জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, পর্যটকেরা সেখানে গেলে তা শুধু পর্যটনশিল্পকেই সহায়তা করবে না, বরং দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে দেশটির অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসএ