ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শিকার দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শিকার দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকলেও থেমে নেই মানবপাচার। কখনও ভ্রমণ ভিসায় কখনও কক্সবাজার থেকে নৌকাযোগে থাইল্যান্ড হয়ে পাচার করা হয় মালয়েশিয়ায়। তেমনই একজন পাচারের শিকার নড়াইলের লরাগাতি উপজেলার অটোচালক জনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে বিমানবন্দর এলাকায় এক দালালের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ভালো কাজের প্রলোভনে নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজারের টেকনাফে। 

এরপর মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে রাতের আধাঁরে জোর করে তোলা হয় নৌকায়। ১০ দিনের যাত্রায় উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছায় থাইল্যান্ড। সেখানে তাদের ৪ মাস বন্দিশিবিরে আটক রেখে চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন। এসময় তাদের হাতে পায়ে পচন ধরে।

নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দিনমজুর পিতা মো. ফুরকান টাকা দিতে না পারলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়ে। এরপর সেখান থেকে আবারও অবৈধ উপায়ে মালয়েশিয়ায় নিয়ে ২ মাস আটকে নির্যাতন চালানো হয়। 

একইভাবে পাচারের শিকার হয় মালয়েশিয়া যান চট্টগ্রামের মিরেরসরাই উপজেলার মো. মোশাররফ হোসেন। মালয়েশিয়ার বন্দিশিবির থেকে টাকা দিয়ে একে একে সবাই মুক্তি পেলেও টাকা দিতে না পারায় মুক্তি মেলেনি জনি ও মো. মোশাররফ হোসেনের। এরপর আগস্টের ২৮ তারিখ সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের রিফিউজি ক্লিনিকের সামনে তাদের ফেলে রেখে যায় পাচারকারী চক্র।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ হাইকমিশনের যোগাযোগ করলে হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর দূতাবাসের অথরাইজেশন লেটার দিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দূতাবাসের সার্বিক সহায়তায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরবেন দুই বাংলাদেশি।

থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্ত ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। দুর্গম বনাঞ্চল ও পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করানো হয়।

সচেতনতার অভাবে গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক মানুষ সঠিক তথ্য না জেনে দালালদের প্রলোভনে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। অন্যদিকে, ভিটেমাটি বিক্রি করে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে টাকা দেওয়ার পর স্বজনের খোঁজ না পেয়ে পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে দিন কাটায়। নিঃস্ব হয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

অন্যদিকে সীমান্ত দুই পাশের প্রভাবশালী ও স্থানীয় পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো আইনের ফাঁক গলে বহাল তবিয়তে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট নিরসনে প্রয়োজন কঠোর সীমান্ত পাহারা, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement