ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের বরখাস্ত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং সালথার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয়। একপর্যায়ে মান্নান মাতুব্বরের পক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে গেলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ জিহাদপন্থিরা নেয়। পরে মান্নান ও তার লোকজন এলাকায় ফিরলে আধিপত্য নিয়ে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়।
গত শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে এক ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ীর কাছে চার হাজার টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে যুবদল নেতা সোলায়মান মাতুব্বর আহত হন। পরে তাকে দেখতে গেলে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের ওপরও হামলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে।
এর জেরে রোববার বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। গুরুতর তিনজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জিহাদের ওপর হামলার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এফএস