বগুড়ার আদমদীঘির নসরতপুর এলএসডি খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহ, মজুত ও সরকারি প্রকল্পে সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধি ও খাদ্য বিভাগের প্রচলিত নিয়ম ভেঙে উপজেলার বাইরে দিনাজপুরের পুলহাট, বগুড়ার শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার চালকল থেকে চাল সংগ্রহ ও মজুতের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, আদমদীঘি উপজেলা পুষ্টি চাউল কর্মসূচির আওতাভুক্ত না হলেও সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণের সময় ‘পুষ্টি চাউল’ লেখা বস্তা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র নারীদের প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়।
সরেজমিনে চাল বিতরণের সময় কয়েকটি বস্তার টেনসিলে দিনাজপুরের পুলহাট এলাকার ইনশাআল্লাহ অটো রাইস মিল, বগুড়ার শেরপুরের উদয়ন অটো রাইস মিল এবং ঠিকানাবিহীন মদিনা অটো রাইস মিলের নাম দেখা যায়। কিছু বস্তায় ‘পুষ্টি চাউল’ লেখা টেনসিলও পাওয়া যায়। তবে এসব বস্তার নিচে একাধিক অস্পষ্ট টেনসিল থাকায় চালগুলো কোথা থেকে এবং কোন মিল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান, বরাবরের মতো নসরতপুর এলএসডি থেকেই চাল উত্তোলন করা হয়েছে। তবে বিতরণ করা চালের বস্তায় ‘বোরো/২০২৫’ লেখা টেনসিল পাওয়া গেছে। অথচ সুবিধাভোগীদের গত আমন মৌসুমে সংগ্রহ করা চাল বরাদ্দ দেওয়ার কথা ছিল। এতে বরাদ্দ ও সরবরাহ করা চালের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিতরণ করা চালের মান নিয়েও অভিযোগ করেছেন সুবিধাভোগীরা। স্থানীয়দের দাবি, সান্তাহারের বুশরা গ্রুপের চাল তুলনামূলক ভালো হলেও কয়েকটি মিলের চাল নিম্নমানের।
খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদমদীঘি সদর ও নসরতপুর এলএসডিতে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী উপজেলার অভ্যন্তরে থাকা অটো, সেমি-অটো ও হাসকিং চালকল থেকে চাল সংগ্রহ ও মজুত করার কথা। তাহলে দিনাজপুরের পুলহাট, বগুড়ার শেরপুরসহ অন্যান্য এলাকার চালকলের চাল কীভাবে নসরতপুর এলএসডিতে সংগ্রহ ও মজুত করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নসরতপুর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমা আফরিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে গুদামে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশার বলেন, “এমনটা তো হওয়ার কথা না।” বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
এসএইচ/আরএন