ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী অংশে সংস্কারকাজের ধীরগতির কারণে যানজটের সৃষ্টি। এতে যাত্রী ও রোগীবাহী পরিবহনকে দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।
এদিকে অস্থায়ীভাবে ইট-বালু দিয়ে দায়সারা সংস্কার করা হলেও বৃষ্টিতে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। মহাসড়কের এসব সমস্যা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কুমিল্লা আদর্শ সদর আমতলী সৌদিয়া হোটেল থেকে নাজিরা বাজার পর্যন্ত এ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, কুমিল্লার আমতলী এলাকায় মহাসড়কের চট্টগ্রাম মুখি লেনে খানাখন্দে খানাখন্দে ইট-ডালা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে এই সংস্কার কাজ করছে সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষ। দ্রুত ও দীর্ঘস্থায়ী কাজ না করার কারণে যানবাহন ও যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
যাত্রী ও চালকরা চান দ্রুত মহাসড়ক সংস্কার করে তাদের দুর্ভোগ কমাতে সড়ক ও জনপদকে স্থায়ী সমাধান বের করা।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ময়নামতি-আমতলী এলাকায় মহাসড়কের খানাখন্দে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ধীরগতির সংস্কার কাজ এবং বৃষ্টির কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্ভোগ ও যানজট নিরসন করতে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত সেখানে কাজ করছে।
তিশা পরিবহনের চালক জামাল হোসেন বলেন, আমতলী অংশে খানাখন্দে ভরপুর। আগে যানজট হতো ঢাকামুখী লেনে আর এখন হচ্ছে চট্টগ্রামমুখি লেনে। এতে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
আমতলী এলাকার বাসিন্দা মাধব দাস বলেন, সকাল ৮টা থেকেই আমাদের অংশে দীর্ঘ যানজট। এটা শুধু আজ নয়। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই এলাকায় যনজট হয়। আপনি যদি সকালে আসতেন দেখতেন মানুষের কি দুর্ভোগ।
আমতলী এলাকার সামিয়া অটোর মালিক আব্দুল হান্না স্বপন বলেন, প্রতিদিনই সাংবাদিকরা আসেন, নিউজ করেন কিন্তু সড়কের কোনো উন্নতি দেখছি না। গতকাল সন্ধ্যায় আমার মোটরসাইকেলের সামনে চাকা গর্তেপড়েছে। এটি মেরামত করতে আমার ৬৩০ টাকা খরচ হয়েছে। এই টাকা সওজ কর্তৃপক্ষ আমাকে দিবে? এই এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য ছোট বড় ঘটনা ঘটছে।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিছুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে সৌদিয়া হোটেলের সমনে মহাসড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে চট্টগ্রামমুখি লেনে এক কিলোমিটারের মতো যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ সকাল থেকে কাজ করছে। বর্তমানে ওই এলাকায় যানজট নেই। তাছাড়া প্রতিদিনই এই এলাকায় পুলিশের একটি টিম উপস্থিত থাকে।
এ বিষয়ে সওজ, সড়ক বিভাগ, কুমিল্লা নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সমস্যা সমাধানে আপাদত ইটের সলিং করা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বর্ষা মৌসুম শেষে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
টিআইএস