গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিখোঁজের চার দিন পর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাফসিরুল ইসলাম অনন্তকে (১৩) ঢাকার এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে সে সেখানে গেল বা কীভাবে এয়ারপোর্ট এলাকায় পৌঁছাল, তা এখনো ভালোভাবে বলতে পারছি না। এই মুহূর্তে সে কিছুটা অসুস্থ। তার শরীর খুব দুর্বল।’
পুলিশ জানায়, অনন্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কেউ ধরে নিয়ে গিয়েছিল। তবে বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা রক্তমাখা জামা ও জুতা উদ্ধার করেছি। কিন্তু তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তাহলে রক্তমাখা জামাকাপড় কোথা থেকে এলো—এ বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখতে হবে।’ তিনি জানান, অনন্ত বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
যেভাবে নিখোঁজ হয় অনন্ত
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে টিফিনের সময় কাপাসিয়ার বীর উজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনন্ত নিখোঁজ হয়। বিদ্যালয় থেকে পাশের নয়ন বাজারে যাওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে অনন্তের রক্তমাখা জামা, জুতা ও স্কুলের পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, টিফিনের সময় বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর অনন্ত আর ফিরে আসেনি। পরে তার জামা-জুতা পাওয়ার খবর পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়।
তিনি জানান, বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় অনন্ত তার সহপাঠীদের বলেছিল, ‘তোমরা যাও, আমি আসতেছি।’
ছেলেকে খুঁজে পেতে অনন্তের বাবা সোহাগ রানা কাপাসিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এর আগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। বিদ্যালয় ভবনের নিচের গেটে তালা লাগানো ছিল। কে তাকে তালা খুলে দিয়েছিল এবং অনন্ত কীভাবে তৃতীয় তলায় গিয়েছিল, সেসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এনএ/আরএন