ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এ অঞ্চলের মোট ২৮টি বিদ্যুৎউৎপাদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে ৬টির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং তীব্র জ্বালানি ঘাটতিতে আরও ৭টি কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন নেমে এসেছে তিন ভাগের এক ভাগে। এর ফলে কাগুজে হিসাবে ঘাটতি না দেখানো হলেও বাস্তবে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের গ্রামাঞ্চলে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা এবং ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটে টানা সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সিইউএফএল সার কারখানার উৎপাদন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটহাজারী ও ইউনাইটেড পাওয়ারের মতো হেভি ফুয়েল অয়েল (এইচএফও) চালিত কেন্দ্র, রাউজান ১ ও ২ নম্বর গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র এবং কাপ্তাই ও টেকনাফের দুটি সোলার পার্ক।
অন্যদিকে আনোয়ারা ইউনাইটেড, বারাকা, জুলদা ১ ও ২ এবং জুডিয়াকসহ আরও সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। সরকারি হিসাবে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি শূন্য দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। পিডিবি কাগজে-কলমে সরবরাহ স্বাভাবিক দাবি করলেও বাস্তবে প্রতিদিন ২০০ মেগাওয়াটেরও বেশি লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নগরীর পাথরঘাটা, আসকারদিঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন আবাসিক ও শিল্প এলাকায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। বায়েজিদ বোস্তামী অঞ্চলের কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। শুধু বিদ্যুৎই নয়, গ্যাস সরবরাহের অভাবে গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান সার কারখানা ‘চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড’ (সিইউএফএল)। দৈনিক প্রায় ৪৫ এমএমসিএফডি গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ না থাকায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি স্তব্ধ, যার ফলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন এক হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী। কর্তৃপক্ষ চলতি মাসের শেষ নাগাদ গ্যাস পাওয়ার আশা প্রকাশ করলেও আপাতত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট কাটছে না চট্টগ্রামবাসীর।
এসএ