নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতা খুন হওয়ার তথ্য দিয়ে পুলিশ বলছে, পুরোনো দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় একটি কিশোর অপরাধী দলের সদস্যরা এতে জড়িত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সালেহনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে তথ্য দিয়েছেন বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন।
নিহত বুলবুল আহমেদ (৩৫) শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে।
যেখানে বুলবুলের ওপর হামলা হয়েছে সেটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন।
ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
“কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন নিহতের পরিবার। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাছুম বিল্লাহ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরে মামলা করেন বুলবুল। মামলায় স্থানীয় একটি ‘কিশোর গ্যাং’ এর নেতা শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়।
এ মামলার জেরেই সালেহনগর এলাকায় সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বুলবুলের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন মাছুম বিল্লাহ।
“এর আগেও সিফাত বাহিনী তার উপর হামলা চেষ্টা করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর কোনো কাজে পাশের সালেহনগর এলাকায় গেলে সেখানে ধারালো অস্ত্র নিয়ে কুপিয়ে বুলবুলকে জখম করে তারা।”
আহত বুলবুলকে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান মাছুম বিল্লাহ।
স্থানীয় ব্যক্তি ও পুলিশ বলছে, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সেই শেখ সিফাত ওরফে 'কাটা সিফাত' শাহী মসজিদ এলাকার শেখ শাহীনের ছেলে। শাহীনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সিফাত স্থানীয় একটি কিশোর অপরাধী দলের নেতৃত্ব দেন। তিনি আগে বন্দরের যুবলীগ নেতা খান মাসুদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। খান মাসুদের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসা ও অপরাধী কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ ছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাসুদ পলাতক থাকলেও সিফাত গত কয়েক মাসে প্রকাশ্যে এসে আবার অপরাধী কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সিফাত বাহিনী'র বিরুদ্ধে একাধিক হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাছুম বিল্লাহ বলেন, “সিফাত বাহিনী আগে খান মাসুদের হয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতো। গণঅভ্যুত্থানের পর পালিয়ে গেলেও আবারও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িয়েছে। আমরা এ বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে শেখ সিফাতের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনের নম্বরে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তার পরিবারের এক সদস্যের নম্বরে কল করলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
এসএ