ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
রাকসুর ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলন, ৬১ লাখের বিল-ভাউচার নেই
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০১ পিএম
X

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করেছে। তবে এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার ব্যয়ের বিল-ভাউচার এখনও জমা দেওয়া হয়নি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, উত্তোলন করা অর্থের বিপরীতে ৩৯টি কর্মসূচি শেষ হয়েছে এক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস আগে। বাকি তিনটি কর্মসূচির কার্যক্রম এখনও চলমান।

হিসাব অনুযায়ী, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার সাত ধাপে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার এখনও জমা হয়নি। অন্যদিকে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা উত্তোলন করলেও ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি।

শুধু ভিপি ও জিএস নন, রাকসুর এজিএস ও আটজন সম্পাদকের বিরুদ্ধেও ব্যয়ের হিসাব যথাসময়ে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

রাকসুর নথি অনুযায়ী, জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের উত্তোলন করা অর্থের মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বুথ স্থাপনের জন্য ৩ লাখ ২ হাজার টাকা, ২৭ জানুয়ারি রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি ২০২৬-এর বাজেট বাবদ ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং ১৩ এপ্রিল দাফতরিক খরচের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা রয়েছে।

এ বিষয়ে জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, রাকসুর ছয় সম্পাদকের মধ্যে পাঁচজন ভাউচার জমা দিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের ৮৫ হাজার টাকার ভাউচার বাকি থাকায় পুরো ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকাকে পেন্ডিং দেখানো হচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলনের ৩ লাখ টাকা এবং আপ্যায়ন বাবদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভাউচার আগেই জমা দেওয়া হয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষার বুথের জন্য পাওয়া ৩ লাখ ২ হাজার টাকা রাকসুর ফান্ডের নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া বলেও দাবি করেন আম্মার। তার ভাষ্য, ওই অর্থের ভাউচারে প্রায় ৪৫-৪৬ হাজার টাকা ভ্যাটের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রাকসুর মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় হিসাবটি ঝুলে আছে।

আম্মার দাবি করেন, তার কাছে আসা সব ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। তাই পুরো অর্থকে পেন্ডিং দেখানো বিভ্রান্তিকর।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, যেকোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। রাকসুর কিছু ভাউচার ও বিল এখনও জমা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঠিক নিয়মে তা জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কোনো বরাদ্দ বা বাজেট নেওয়ার আগে আগের গৃহীত অর্থের ভাউচার জমা দিয়ে তা সমন্বয় করতে হয়। আগের হিসাবগুলো দ্রুত সমন্বয়ের জন্য তিনি রাকসুর কোষাধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বড় অঙ্কের অর্থ অসমন্বিত অবস্থায় রয়েছে। রাজশাহী ফিরে রাকসু কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। রাকসুর সভাপতি হিসেবে এ বিষয়ে মনিটরিং করার দায়িত্বও তার রয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয় পান শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। তবে জিএস, ক্রীড়া ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হন।

-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝