দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে আজ। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট হয়েছিল। এরপর সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অলি আহমদ।
আজ বৃহস্পতিবার তাদের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে। ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের রায়ের ওপর নির্ভর করে নির্বাচিত হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।
নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সিইসি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমাদের যত রকম প্রস্তুতি প্রয়োজন তা সম্পন্ন করেছি। প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। এই নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পাচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস, সুন্দর একটা নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে। সুতরাং, এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটা আমার জন্য একটা ভাগ্যের ব্যাপার। পুরো জাতি এবং বিশ্ববাসী জানে, আমাদের একজন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আপনারা সবাই জানেন, ১৯৯১ সালে শেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর কিন্তু আর হয়নি। এ কারণে আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে অভ্যস্ত না। সংসদ সচিবালয় যেখানে গভীরভাবে যুক্ত থাকে, উনারাও এই ধরনের কার্যক্রম করে অভ্যস্ত না। তারপরও আমরা যত রকমের অনুশীলন সম্ভব এবং দরকার সেটা করেছি। যাতে করে আমাদের পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো ঘাটতি না হয়।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘১৯৯১ সালের আইনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা আছে। আইন এবং বিধিমালার আলোকে আমরা দেখেছি যে কয়েকটা স্তরে এই কার্যক্রমটাকে ভাগ করা যায়। এক নম্বর হচ্ছে, যদি জাতীয় সংসদের অধিবেশন থাকে তাহলে এক ধরনের ব্যবস্থা। আর যদি অধিবেশন না থাকে তা হলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা। এখন আমাদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলছে না। অধিবেশন ডাকতে হবে, এমনও না। শুধু নির্বাচনের জন্য একটা বৈঠক আহ্বান করলেই চলে। আইনের আছে এটা, নির্বাচনি কর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া আছে। উনি একটা বৈঠক আহ্বান করবেন। সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছি। আমাদের ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৩৪৯ জন। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট হবে। এখানে আমাদের রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত) একজন ভোটার, প্রধানমন্ত্রী ভোটার, স্পিকার ভোটার, তেমনি বিরোধীদলের নেতাও ভোটার।’
নাসির উদ্দিন বলেন, ‘প্রথম দিকে যখন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেবেন তখন সরাসরি সম্প্রচার হবে। তারপর ৫টার সময় ভোট গণনা শুরু করলে আবারও সরাসরি সম্প্রচার হবে। সংসদ সদস্যরা যেহেতু ভোটার, ভোট দিয়েই চলে যাবেন এমন না, তারা উপস্থিত থাকতে পারবেন। এমনকি তারা ভোট গণনার সময়ও থাকতে পারবেন। এটা খুব স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হবে। সুতরাং এখানে কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।’
‘কোনো প্রার্থী কতটি ভোট পেলেন, কতটি ভোট বাতিল বা নষ্ট হলো, সংখ্যাগুলো সব বিস্তারিত আমি ঘোষণা করবো। যিনি বিজয়ী হবেন বা যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবেন, তার নাম ঘোষণা করে দেবো। এরপর গেজেট প্রকাশ করবো,’ যোগ করেন তিনি।
এসএ