সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কের বিভিন্ন স্থানে নিলামের মাধ্যমে কেটে ফেলা হচ্ছে অর্ধশত বছরেরও বেশি পুরোনো বহু গাছ। এতে পরিবেশের ভারসাম্য ও সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সুরমা নদীর তীরঘেঁষা গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি আগামী বর্ষায় নদীভাঙনের আরও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দোয়ারাবাজার থেকে ছাতক পর্যন্ত সড়কের একটি বড় অংশ সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে বেড়ে ওঠা বড় বড় গাছগুলো নদীর তীরের মাটি ধরে রাখা এবং বর্ষাকালে ঢেউয়ের আঘাত প্রতিরোধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে ভূমিকা রাখছিল। তবে সম্প্রতি নিলামের মাধ্যমে এসব গাছ পর্যায়ক্রমে কেটে নেওয়ায় অনেক স্থান বৃক্ষশূন্য ও উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলেও গাছ কাটার ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এতে সড়ক ও নদীর তীর উভয়ই দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
দোয়ারাবাজার-ছাতক বন বিভাগের কর্মকর্তা ফেরদৌস জানান, সড়কের পাশে অতিরিক্ত গাছ থাকায় নিয়ম অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে। নিলাম গ্রহীতারা পর্যায়ক্রমে গাছগুলো কেটে নিচ্ছেন।
সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী গাড়িচালক আলমগীর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তায় গাড়ি চালাই। বড় বড় গাছগুলো যাত্রী ও চালকদের স্বস্তি দিত। সড়কটি নদীর পাড় ঘেঁষে হওয়ায় গাছগুলো কেটে ফেলায় আগামী বর্ষায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যাবে।”
স্কুলছাত্র আল আমিনও পুরোনো গাছগুলো কেটে ফেলায় আক্ষেপ প্রকাশ করে। তার ভাষ্য, রাস্তার পাশের এসব গাছ তাদের ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য ধরে রেখেছিল। অবশিষ্ট গাছগুলো রক্ষা এবং নতুন করে গাছ লাগানোর দাবি জানায় সে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অর্ধশতবর্ষী এসব গাছ কাটার আগে পরিবেশগত প্রভাব ও নদীভাঙনের ঝুঁকি যাচাই করা জরুরি ছিল। নদীতীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তারা অবিলম্বে অবশিষ্ট প্রবীণ গাছের সংরক্ষণ, নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ এবং নদীভাঙন রোধে সড়কের নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এমবি/আরএন