ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের মাস্টারমাইন্ডসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বেলপুকুর শাহপাড়া এলাকার দুলাল শাহের ছেলে মো. নাইম শাহ (২৩), হাজারীহাট শাহপাড়া এলাকার বাবুর ছেলে মো. সাগর ইসলাম (২৫) এবং একই এলাকার জিন্নাতের ছেলে মো. বাবু ইসলাম (৪৫)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের নির্দেশনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংক ও বিকাশ প্রতারণা প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দীনের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বগুড়া, রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অন্যের ভিডিও ও ভুয়া কানাডিয়ান মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কানাডার ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মোবাশ্বির বখত চৌধুরী (৩৭) নামের এক ব্যক্তির মোবাইলে থাকা ব্যাংকিং অ্যাপ ও ই-মেইলের নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রতারক চক্রটি। পরে অনলাইনে ভিএফএস গ্লোবাল, বিকাশ ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে মোট ২১ লাখ ৫৩ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এর মধ্যে ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ১২ আগস্ট হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১৯(২), ২১(১), ২২(১), ২৪(২) ও ২৭ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
এমআর/আরএন