৪ বছর বয়সী একমাত্র মেয়ের জন্য বাঁচতে চান ক্যান্সার আক্রান্ত যুবক ফাহাদ হোসেন পিয়াস। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় এতদিন তাঁর চিকিৎসা চললেও অর্থের অভাবে এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যয়বহুল চিকিৎসার চাপ সামলাতে গিয়ে পিয়াসের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। নিত্যদিনের সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে ক্যান্সার আক্রান্ত পিয়াসের চিকিৎসা চালানো তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন ও গৃহবধূ পান্না বেগম দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ফাহাদ হোসেন পিয়াস সবার বড়। ফারুক হোসেনের একার আয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ কারণে পিয়াস এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি। প্রায় ৯ বছর আগে সংসারের হাল ধরতে বাবার সঙ্গে কাজের সন্ধানে নেমে পড়েন তিনি।
এরই মধ্যে পিয়াস বিয়ে করেন ফিজা বেগমকে। তাঁদের সংসারে ফাতেমা আক্তার ফারহা নামে ৪ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
পিয়াসের বাবা ফারুক হোসেন আগে ক্ষুদ্র ব্যবসা করলেও করোনা মহামারির সময় পুঁজি হারান। পরে সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি করে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। কিছুদিন আগে ঋণ করে একটি অটোরিকশা কিনেছেন তিনি।
প্রায় দুই বছর আগে পিয়াসের পায়ে তীব্র ব্যথা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাঁর পা ফুলে যায়। প্রথমে চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয় করতে না পারলেও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রায় ৯ মাস আগে তাঁর ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাঁকে ছয়টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। কিন্তু এখন অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে।
একসময় অন্যের জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে রক্ত দিতে ছুটে যেতেন পিয়াস। অথচ এখন নিজেকেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার জন্য মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
পিয়াস জানান, দুই থেকে তিন বছর আগে তাঁর পায়ে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। প্রথম দিকে ব্যথানাশক ওষুধ খেলে ব্যথা কমত। পরে ওষুধে কাজ না হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাতেও ব্যথা কমেনি। একপর্যায়ে তাঁর পা ফুলে যায়। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা ও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও চিকিৎসকরা রোগ শনাক্ত করতে পারেননি। পরে তাঁর পা বাঁকা হয়ে যায়। প্রায় ৯ মাস আগে বায়োপসি করার পর তাঁর ক্যান্সার শনাক্ত হয়।
পিয়াস বলেন, তাঁর ক্যান্সার চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা চালিয়ে গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবাই বাঁচতে চায়। আমিও বাঁচতে চাই। আমার চার বছরের মেয়েটার জন্য বাঁচতে চাই। কিন্তু এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে।’
পিয়াসের মা পান্না বেগম বলেন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় প্রায় ছয় মাস ধরে পিয়াসের কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর ছেলে একসময় অন্যের জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে রক্ত দিতে ছুটে যেতেন। অথচ আজ তাঁকেই রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বিত্তবানসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে পিয়াসের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
পিয়াসের বাবা ফারুক হোসেন বলেন, ‘আল্লাহ যেন এই ক্যান্সার রোগ কাউকে না দেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, ক্যান্সার হলে অনেক পাঁচতলা ভবনের মালিকও বাড়ি বিক্রি করে অন্যের কাছে হাত পাতেন। আর আমাদের তো কিছুই নেই। মানুষের সহযোগিতায় এতদিন ছেলের চিকিৎসা করিয়েছি। ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করেছি। এমনকি একজনের উপহার দেওয়া ফ্রিজও বিক্রি করতে হয়েছে।’
সরকার ও বিত্তবানসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় পিয়াস দ্রুত সুস্থ হয়ে তাঁর চার বছরের মেয়ের কাছে ফিরে আসবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর পরিবার ও স্বজনদের।
পিয়াসের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।
বিকাশ: 01998025940
নগদ: 01935-629031
এসএস/আরএন