সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সড়কের পাশের একটি বড় রেন্টি গাছ কাটার চারদিন পেরিয়ে গেলেও গাছটি সরকারি নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন- এ বিষয়ে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে দিরাই-শ্যামারচর সড়কের রাজানগর বাজারসংলগ্ন এলাকায় গাছটি কাটার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন তহসিলদার ও উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলেও গাছটির মালিকানা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, রাজানগর বাজারের পাশে স্থানীয় তহসিল অফিসের কাছেই থাকা একটি বড় রেন্টি গাছ শুক্রবার কাটা হয়। ওই সময় দিরাই-শ্যামারচর সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সাবেক সুপারভাইজার মো. আজাদ মিয়া ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সড়কের গাছ কাটতে দেখেন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে গাছের ক্রেতা দিরাই বাজারের কাঠপট্টির ব্যবসায়ী মনরাজ মিয়ার কাছে বিষয়টি জানতে চান।
মনরাজ মিয়া তাকে জানান, গাছটি তিনি রাজানগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানের কাছ থেকে কিনেছেন। পরে আজাদ মিয়া বিষয়টি ইউনিয়ন তহসিলদার ও উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীকে মুঠোফোনে অবহিত করেন।
মো. আজাদ মিয়া বলেন, “আমি যখন এ সড়কের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সুপারভাইজার ছিলাম, তখন গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। এগুলো সুইজারল্যান্ডের অর্থায়নে এলজিইডির আওতায় সড়কের পাশে লাগানো হয়। বিষয়টি আমি যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।” তাঁর দাবি, কাটা গাছটির মূল্য আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা হতে পারে।
তবে গাছটির ক্রেতা দিরাই বাজারের কাঠপট্টির ব্যবসায়ী মনরাজ মিয়া বলেন, তিনি রাজানগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জুয়েলের কাছ থেকে গাছটি ৮ হাজার টাকায় কিনেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান ১৫ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। গাছটি কেটে আনতে তাঁর প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কাটা গাছ থেকে প্রায় ৩৫ ফুট কাঠ পাওয়া গেছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১৪ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি কাঠগুলো চিরে বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও জানান।
অভিযোগের বিষয়ে রাজানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, “কোনো মালিক তাঁর জায়গায় লাগানো গাছ কাটতে পারেন। যার গাছ তিনি বিক্রি করেছেন, এ বিষয়ে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
রাজানগর ইউনিয়নের তহসিলদার আব্দুল আজিজ জানান, গত শনিবার রাতে তিনি গাছ কাটার বিষয়টি জানতে পারেন। চারদিন পার হলেও গাছটি সরকারি নাকি
ব্যক্তিমালিকানাধীন- এ বিষয়ে কেন এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গতকাল রোববার একটু ঝামেলায় ছিলাম। আজকে বিষয়টি খোঁজ করে দেখব।”
দিরাই উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এখন পর্যন্ত (সোমবার রাত) কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এ কারণে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনি।” তবে এলজিইডির সড়কের পাশে তাদের প্রকল্পের আওতায় লাগানো গাছ কাটা হয়ে থাকলে এ বিষয়ে কার লিখিত অভিযোগ করার কথা- এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, “আগামীকাল (মঙ্গলবার) লোক পাঠিয়ে তদন্ত করাব।”
এ ঘটনায় গাছটি সরকারি সম্পত্তির অংশ হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন হলে মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
টিএস/বাছির