ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ইতালিতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: স্ত্রী-কন্যাসহ বাবুলের দাফন সম্পন্ন
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
X

ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে ঘটনার এক মাস ১৯ দিন পার হলেও এখনো প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ মাগরিব উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তাঁর স্ত্রী (৩৮) এবং তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা।

একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়ন। তিনি শুক্রবার বিকেলে দেশে পৌঁছে জানাজা ও দাফনে অংশ নেন। এর আগে সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত তিনজনের মরদেহ পৌঁছায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে বাবুল, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হন। প্রতিবেশীদের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত ১১ আগস্ট ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ক্যাসালোত্তির পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় নিহতদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।

এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে প্রধান সন্দেহভাজন মো. শাহাদাত হোসেন (৪০)। তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আহাদের ছেলে।

গত ২৭ জুন শাহাদাত হোসেনের ছবি প্রকাশ করে ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিজ্ঞপ্তিতে রোমে ট্রিপল মার্ডারের মূল হোতা হিসেবে তাঁকে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। তাঁর বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে রোম কোয়েস্টের মোবাইল টিমের +39 3346903295 নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, ২০২৫ সালের ২ জুলাই ‘লাল বাহিনী’ নামে একটি উড়ো চিঠিতে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও নারীদের নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়। এ নিয়ে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।

নিহতের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস বলেন, “পাঁচ বোনের মধ্যে বাবুল এক ভাই ছিল। দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশত। এমন নির্মম ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ। অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনো আইনের আওতায় না আনা হওয়ায় বিস্মিত।”

নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হলো। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি বিচার চাই।”

এদিকে ইতালীয় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে।

এমআর/আরএন

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝