পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর চাটমোহর আওতাধীন বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা প্রায় এক মাস ধরে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন। এর সঙ্গে শ্রাবণের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে প্রাণীকুল। লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। পাশাপাশি আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগির খামারিরা।
এই পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন গ্রাহকেরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন। গ্রামাঞ্চলের চিত্র আরও ভয়াবহ।
অফিস-আদালত, থানা ও হাসপাতাল থাকার পরও চাটমোহর পৌরসভা এলাকায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ বিতরণে সমন্বয়হীনতার বিষয়ে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, পৌরসভার মধ্যে হাসপাতাল, ব্যাংক ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অফিস থাকায় এখানে বিদ্যুৎ আলাদা ফিডারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। এরপরও ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে সমানভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিং করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশুরা। বাড়িতে থাকা অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদেরও পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ঘটছে হিট স্ট্রোকের মতো ঘটনাও। বিদ্যুৎনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদানও ব্যাহত হচ্ছে।
পোল্ট্রি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ লোডশেডিং—এই দুইয়ে মিলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। হিট স্ট্রোকের কারণে অনেক খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ডিমের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সকাল, বিকেল ও রাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে।’
পাবনার চাটমোহর পৌর এলাকার ইলেকট্রনিক মেকানিক ময়লাল হোসেন বলেন, ‘লোডশেডিং ও তীব্র গরমের কারণে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে কোনো কাজ করা যায় না। ২-৩ জন কর্মচারীকে প্রতিদিন টাকা দিতে হয়, কিন্তু কাজ কিছুই হয় না। দিন-রাত সমানভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। ব্যবসায় ব্যাপক লোকসান হচ্ছে। কী আর করব, কাকে দোষ দেব?’
চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও চিকিৎসক হুমায়ুন কবির জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও তীব্র গরমের কারণে হাসপাতালে ডায়রিয়া ও আমাশয়ের রোগী বাড়ছে। তিনি সবাইকে বেশি করে ঠান্ডা পানি পান করার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে লোডশেডিং কিছুটা বেড়েছে। শুধু এই পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকেই লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে না, সারা দেশেই একই সমস্যা। আমাদের এই পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ৭৯ মেগাওয়াট। সেখানে আমাদের সরবরাহ করা হচ্ছে ৫৬ মেগাওয়াট। আমরা বাধ্য হয়েই প্রায় ৩০ শতাংশ লোডশেডিং করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রাহকের অসন্তোষ প্রশমনে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন কোন কোন এলাকায় কত সময় লোডশেডিং থাকবে, তা জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উচ্চপর্যায়ে মিটিং হয়েছে। আশা করি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।’
আরআর/আরএন