কবি ও সাংবাদিক শাহনূর খানের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার। ১৯৮৮ সালের এই দিনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে যশোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শাহনূর খান পেশাগত জীবনে ছিলেন সাংবাদিক। কাজ করেছেন রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক বার্তা, বাংলার বাণী ও দৈনিক খবর পত্রিকায়। মৃত্যুকালে তিনি দৈনিক খবরের শিফট ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সৃজনশীল সাহিত্যচর্চাও অব্যাহত রেখেছিলেন। জীবদ্দশয়া তার ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক ও কাব্যসহ একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনাচরণ, স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা ছিল শাহনূর খানের সাহিত্য ভাবনার প্রধান বিষয়।
শাহনূর খান মূলত কবি। অসংখ্য কবিতা লিখেছেন যার বেশিরভাগই অপ্রকাশিত। নাট্যকার হিসেবেও তার অবস্থান প্রণিধানযোগ্য। তার বেশ কয়েকটি নাটক একাধিকবার মঞ্চস্থ হয়েছে। তবে সবচেয়ে সাড়া জাগিয়েছিল তার 'সভাপতি বলবেন' নাটকটি। এটি ছিল স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের অন্যতম মাইলফলক। মৃত্যুর এক বছর আগে টিভিতে সম্প্রচারিত হয় তার 'পরের জায়গা পরের জমি' নাটকটি।
শাহনূর খানের প্রকাশিত চারটি গ্রন্থ হলো- অহংকারের সমান (কাব্য, ১৯৮৬), স্মৃতিতে নেই স্বপ্নেও নেই (কাব্য, ১৯৮৬), পরাজিত পৃথ্বীরাজ (গল্পগ্রন্থ, ১৯৮৯), শত্রু শত্রু (নাটক, ১৯৯৭)।
এছাড়া, বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও উপন্যাস ছাপা হয়েছে। আর সাংবাদিক হিসেবে লিখেছেন অসংখ্য কলাম।
শাহনূর খানের জন্ম ১৯৪৬ সালের ৫ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলার সারেংপুর গ্রামে নানা বাড়িতে। ডা. শাহাদাত আলী খান ও সালেমা খাতুনের ১১ ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার বড় তিনি। তার সহধর্মিনী রিজিয়া সুলতানা সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে অবসরে রয়েছেন। এই দম্পতির তিন ছেলে রয়েছে।