অটোমেশন ও করজাল সম্প্রসারণে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
অর্থবছর শেষে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক খাতে আয় প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশের বেশি হলেও চূড়ান্ত হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। মঙ্গলবার প্রকাশিত এনবিআরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআরের মূল বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস মিলিয়ে এনবিআর মোট ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে। এর আগে গত ১২ জুলাই জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রাথমিক হিসাবে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রায় ৯২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতির তথ্য দিয়েছিলেন। তবে চূড়ান্ত হিসাব প্রসেসিং শেষে সেই ঘাটতি কিছুটা কমে সাড়ে ৮৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
এনবিআরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও রাজস্ব আদায়ে ১২.০৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। খাতওয়ারি হিসাবে বিদায়ী অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি এসেছে আয়কর খাত থেকে, যেখানে ১২.৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৫,৬২০ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ লাখ ২৯,০৯০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে বড় উৎস ভ্যাট খাত থেকে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৭,৭৩৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের ১ লাখ ৪১,৫৭৬ কোটি টাকার তুলনায় ১১.৮০ শতাংশ বেশি। এছাড়া আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক খাত থেকে আদায় হয়েছে ১ লাখ ১২,১১৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ১ লাখ ৯৮ কোটি টাকার তুলনায় ১১.৯০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বাজেট বাস্তবায়নের এই চিত্র নিয়ে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রকৃত আদায়ের মধ্যে এই বড় ব্যবধান এনবিআরের নীতিগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের মতে, অটোমেশন প্রক্রিয়া চালু হলেও করজাল পুরোপুরি বিস্তৃত না হওয়ায় এবং আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অনেক উঁচুতে প্রাক্কলন করায় প্রতি বছরই এই ধরনের লক্ষ্যমাত্রার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
এদিকে বিদায়ী বছরের এই ঘাটতি পেছনে রেখেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের বিশাল দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অর্থবছরের এই প্রকাণ্ড লক্ষ্য পূরণ করতে হলে এনবিআরকে ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে—যা রাজস্ব প্রশাসনের জন্য একটি বড় আর্থিক পরীক্ষা ও চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।
এসএ