ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
হামের চিকিৎসায় ঋণগ্রস্ত ৮৯শতাংশ পরিবার: জরিপ
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম আপডেট: ০৩.০৮.২০২৬ ৫:৩২ পিএম
X

হামের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায় ৮৯ শতাংশ পরিবারকে ঋণ করতে হয়েছে। দেশে হামের প্রকোপের মধ্যে সন্তান হারানোর বেদনার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে কী পরিমাণ আর্থিক ভার বইতে হচ্ছে, তার একটি চিত্র উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে জানানো হয়, হামের প্রাদুর্ভাবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) যৌথভাবে এই জরিপ চালিয়েছে।


পাশাপাশি প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ছয়টিকেই (প্রায় ৬১ শতাংশ) চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজেদের জমানো সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর ৭৫ শতাংশ রোগীর বয়স ৪ বছরের নিচে। এছাড়া ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী রোগী ১৯ শতাংশ এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোগী রয়েছে ৬ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে প্রতিটি পরিবার গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে ব্যয় করেছে। এই ব্যয় মেটাতে গিয়ে ৪ শতাংশ পরিবার নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছে এবং প্রায় ৩ শতাংশ পরিবার অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া সব পরিবারই বলেছে, ধকল সামলে উঠতে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে ওষুধের কথা বলেছে। এরপর রয়েছে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সহায়তা (৩৩ শতাংশ) এবং খাদ্য সহায়তা (২২ শতাংশ)।

পেশাগত তথ্য দেওয়া পরিবারগুলোর ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

অসুস্থ শিশু বা পরিবারের সদস্যের পাশে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে অনেকে আয় হারিয়েছেন, এমনকি চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে।

রংপুরের হাজেরা খাতুন গত জুন মাসে তার ১১ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। মেয়ের হামের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে তাদের ৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

হাজেরা খাতুন বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও এর বাইরে অনেক খরচ থাকে। শুধু অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আসতেই আমাদের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

প্রতিদিন খাবার কিনতে হচ্ছে, বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার খরচ দিতে হচ্ছে, সঙ্গে আরও নানা দৈনন্দিন ব্যয় রয়েছে।

“আমি ইতোমধ্যে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করেছি। আমার স্বামী সৌদি আরবে কাজ করেন, কিন্তু এই মাসে তিনি বেতন পাননি। এতে আমাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে,” বলেন হাজেরা।

জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারিত ঝুঁকির মানদণ্ড অনুযায়ী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তা (প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা) দেওয়ার জন্য নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল কবির এম আশরাফ আলম বলেন, “এই মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, অনেক পরিবার শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, একই সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক সংকটেরও মুখোমুখি হয়েছে।

“আমাদের জরুরি সাড়ার অংশ হিসেবে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

বাংলাদেশে আইএফআরসি এর হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, “হামের এই স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার প্রভাব শুধু হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অসুস্থ শিশু বা পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক পরিবার কঠিন আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে।

“এই মূল্যায়নের ফলাফল বলছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা–দুটোই জরুরি। আমাদের কার্যক্রম অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।”

আইএফআরসি ও অংশীজনদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী হাম টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে বিডিআরসিএস।

পাশাপাশি কমিউনিটিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কেন্দ্রে সহায়তা এবং মানুষকে টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করতে ১ হাজারের বেশি রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

টিআইএস


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝