জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা, খরা ও লবণাক্ততার ক্ষতি মোকাবিলায় হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন জাতের ধানের বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হাওরাঞ্চলে আগাম জাতের বিরি-১১৮ ধানের বীজ এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণসহিষ্ণু (স্যালাইন টলারেন্স) জাতের ধান অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা সার্কিট হাউজে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ফসলের ক্ষতি কমাতে আগাম জাতের বিরি-১১৮ ধান চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জাতের ধান আগাম রোপণ ও দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হওয়ায় বন্যার ঝুঁকি কমবে। চলতি মৌসুমে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ৩০ টন বীজ সরবরাহ করা হবে, যাতে আগামী মৌসুমে বীজ সংকট দেখা না দেয়।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসময়ে বৃষ্টিপাত, বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলায় কৃষকদের উপযোগী নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। নতুন উদ্ভাবিত বিরি-১১৮ জাতের ধান শীতল আবহাওয়াতেও সহজে অঙ্কুরোদগম করতে সক্ষম হওয়ায় উৎপাদন ঝুঁকি কমবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় লবণসহিষ্ণু জাতের ধানের বীজ উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এসব জাতের ধান লবণাক্ত পরিবেশেও ভালো ফলন দিতে সক্ষম হবে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি অধিদপ্তরের খামারবাড়ির সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের পরিচালক মো. রওশন আলম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আকতারসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তারা।
টিআইএস