উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নজিরবিহীন বিরোধিতা ও তীব্র প্রতিবাদের মুখে অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হলেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মেগা টুর্নামেন্টগুলোর অংশীদারিত্ব বা শেয়ার বেসরকারি ফান্ডের কাছে বিক্রি করার বিতর্কিত পরিকল্পনাটি বাতিল ঘোষণা করেছে।
ফিফার গঠিত নতুন বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার মূল্যমান ধরা হয়েছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। তবে প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর পরই ইউরোপীয় ফুটবলের সংস্থা উয়েফা কঠোর অবস্থান নেয় এবং ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের ঘোষণা দেয়। উয়েফা এক বিবৃতিতে এই উদ্যোগকে "ফুটবলের আত্মাকে বিক্রির চেষ্টা" এবং "গোপনে নেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত" বলে সমালোচনা করে।
চাপের মুখে পড়ে শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো সিদ্ধান্ত বাতিলের কথা জানিয়ে বলেন, "সকলের মতামত ও উদ্বেগ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার পর এটি স্পষ্ট যে, এই প্রস্তাবটি বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরণের বিভাজন তৈরি করেছে যা টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। আমাদের মূল লক্ষ্য সবসময়ই ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। ফলে এই প্রস্তাব নিয়ে আমরা আর এগোব না।"
এই সিদ্ধান্ত আসার ঠিক আগেই ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস করদেইরো এই পরিকল্পনাকে "ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর" অ্যাখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেন। এছাড়া ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) কেভিন লামুর অভিযোগ করেন, ইনফান্তিনো এই 'একক সিদ্ধান্ত' বাস্তবায়নে ফিফার কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বিভ্রান্ত করেছেন।
পরিকল্পনাটি বাতিলের মাধ্যমে আপাততঃ বড় ধরণের বয়কটের হাত থেকে বেঁচে গেল বিশ্ব ফুটবল। তবে আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা সভাপতি নির্বাচনে জিয়ানি ইনফান্তিনোর অবস্থান এখন চরম অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা কিংবা কনকাকাফ প্রধান ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
এসএ