পাহাড় ভ্রমণে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ভোলার বোরহানউদ্দীন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের যুবক মো. জামির উদ্দিন (৩২)। তিনি ওই ইউনিয়নের আব্দুল হক মিয়ার একমাত্র ছেলে। একই ঘটনায় আরও এক নারী পর্যটক রোকাইয়া আক্তারের মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, গত বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছয়টি মোটরসাইকেলে মোট ১০ জন পর্যটক ঢাকা থেকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারা বগালেক এলাকায় পৌঁছে একটি কটেজে রাতযাপনের জন্য ওঠেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সবাই বগালেক ভিউ পয়েন্টে ঘুরতে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেখানে ছবি তোলা শেষে আটজন পর্যটক ফিরে এলেও মো. জামির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তার গাইডের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলা-ল-১১-৩২২১ নম্বরের সাদা-কালো রঙের একটি এপাচি ৪ভি মোটরসাইকেলে ভিউ পয়েন্ট অতিক্রম করে সামনে চলে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাইড মো. ইসমাইল বিষয়টি বগালেক আর্মি ক্যাম্পকে অবহিত করেন।
এরপর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। রাত প্রায় ১১টার দিকে বগালেক ভিউ পয়েন্ট সংলগ্ন পাহাড়ি খাদ থেকে ওই দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, “বগালেক ভিউ পয়েন্ট এলাকার পাহাড়ি খাদ থেকে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে জামির উদ্দিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রামের বাড়ি বড় মানিকা ইউনিয়নে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্থানীয়রা জানান, তিনি ছিলেন তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। পুরো এলাকায় শোকের মাতম বিরাজ করছে।
আরডি/আরএন