২০২৬-এ সমাপ্ত তৃতীয় আর্থিক প্রান্তিকের ফলাফল প্রকাশ করেছে ভিসা ইনকরপোরেটেড। এ প্রান্তিকে রাজস্ব, মুনাফা এবং লেনদেন কার্যক্রমে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিএএপি ভিত্তিক নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা শেয়ারপ্রতি ২.৯৭ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ৭% ও ১০% বেশি।
বিশেষ খাত এবং সংশ্লিষ্ট করের প্রভাব বাদ দিলে, নন-জিএএপি নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বা শেয়ারপ্রতি ৩.৩২ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এটি যথাক্রমে ৮% ও ১১% বৃদ্ধি পেয়েছে। কন্সট্যান্ট-ডলার ভিত্তিতে জিএএপি শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে প্রায় ৯% এবং নন-জিএএপি শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে প্রায় ১১%।
ভিসার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রায়ান ম্যাকইনার্নি বলেন, “২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ভিসার নিট রাজস্ব বছরওয়ারি ১৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে জিএএপি ইপিএস বেড়েছে ১০% এবং নন-জিএএপি ইপিএস বেড়েছে ১১%, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত সন্তোষজনক ফলাফল। ভোক্তা ও ব্যবসায়িক ব্যয়ের ধারা এখনও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি, কনজ্যুমার পেমেন্ট, কমার্শিয়াল ও মানি মুভমেন্ট সল্যুশন এবং ভ্যালু-অ্যাডেড সার্ভিসেস- এই তিনটি কৌশলগত খাতে আমাদের ধারাবাহিক সাফল্য প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। বিশ্বব্যাপী পেমেন্ট খাতের শীর্ষ হাইপার-স্কেলার হিসেবে আমরা নতুন পণ্য ডিজাইন, উন্নয়ন এবং দ্রুত বাজারজাত করার সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে চলেছি। এর মাধ্যমে ভিসা, আমাদের ক্লায়েন্ট এবং সমগ্র ইকোসিস্টেম ভবিষ্যতের সুযোগগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারবে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।”
তৃতীয় আর্থিক প্রান্তিকে ভিসার নিট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১১.৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪% বেশি। কন্সট্যান্ট-ডলার ভিত্তিতে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩%। পেমেন্ট ভলিউম, ক্রস-বর্ডার লেনদেন এবং প্রসেসড ট্রানজেকশনের ধারাবাহিক বৃদ্ধিই এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।
৩০ জুন, ২০২৬-এ সমাপ্ত তিন মাসে কন্সট্যান্ট-ডলার ভিত্তিতে পেমেন্ট ভলিউম বছরওয়ারি ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, সার্ভিস রাজস্ব নির্ধারণে ব্যবহৃত আগের প্রান্তিকের পেমেন্ট ভলিউম বেড়েছে ৯%।
ইউরোপের অভ্যন্তরীণ লেনদেন বাদ দিয়ে কন্সট্যান্ট-ডলার ভিত্তিতে ক্রস-বর্ডার ভলিউম বছরওয়ারি ১২% বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে ক্রস-বর্ডার ভলিউম বেড়েছে ১৩%। একই সময়ে মোট প্রসেসড ট্রানজেকশনের সংখ্যা ৭১.৭ বিলিয়নে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০% বেশি।
রাজস্বের বিভিন্ন খাতের মধ্যে সার্ভিস রাজস্ব ১৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৯ বিলিয়ন ডলারে এবং ডেটা প্রসেসিং রাজস্ব ১৭% বৃদ্ধি পেয়ে ৬.০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন থেকে রাজস্ব বেড়ে হয়েছে ৩.৯ বিলিয়ন ডলার, যা বছরওয়ারি ৬% বেশি। এছাড়া অন্যান্য রাজস্ব ৪৫% বৃদ্ধি পেয়ে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময় ক্লায়েন্ট ইনসেনটিভ বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮% বেশি।
জিএএপি ভিত্তিক পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪.৮ বিলিয়ন ডলার, যা বছরওয়ারি ১৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণ ছিল কর্মী-সংক্রান্ত ব্যয় বৃদ্ধি। বিশেষ খাতের ব্যয় বাদ দিলে, নন-জিএএপি পরিচালন ব্যয় ১৭% বেড়েছে, যার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে মার্কেটিং কার্যক্রম এবং মানবসম্পদে অতিরিক্ত বিনিয়োগ।
৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত ভিসার হাতে নগদ, নগদ-সমতুল্য সম্পদ এবং বিনিয়োগ সিকিউরিটিজ মিলিয়ে মোট ১৩.৯ বিলিয়ন ডলার ছিল।
-টিএস