ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
এলএনজি সরবরাহে ধাক্কা, গ্যাস সংকট কাটছে না দ্রুত
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম
X

একটি অগ্নিকাণ্ডের ধাক্কায় দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে বড় সংকট। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই আগুন লাগার পর থেকে বন্ধ রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা। এর প্রভাবে জাতীয় গ্রিডে কমে গেছে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ।

টার্মিনালটির মেরামতকাজ শুরু হলেও চলতি মাসে এটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে আবাসিক গ্রাহক থেকে শুরু করে পরিবহন ও শিল্প খাত—সবখানেই গ্যাস সংকটের প্রভাব আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এক টার্মিনাল বন্ধ, কমেছে বড় পরিমাণ সরবরাহ

দেশে আমদানিকৃত এলএনজি পুনঃবাষ্পীভবন (রিগ্যাসিফিকেশন) করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য রয়েছে দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ)। এই দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত সরবরাহ সক্ষমতা ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।

কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের পর একটি টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনের গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, টার্মিনালের বয়লার থেকে বের হওয়া সিগন্যালবাহী বৈদ্যুতিক তারে শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।

বর্তমানে বিদেশি প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ করছেন। তবে চলতি সপ্তাহে টার্মিনালটি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে না।

চাহিদা-সরবরাহের ব্যবধান আরও বড়

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে পাওয়া যায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।

একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট। এতে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। দৈনিক চাহিদার বিপরীতে আগে ৩০ শতাংশ কম সরবরাহ থাকলেও বর্তমানে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে, তবে এ মাসের মধ্যে এটি ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

রান্নাঘর থেকে রাস্তায়—সবখানে সংকট

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আবাসিক গ্রাহকদের জীবনে। অনেক এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চুলায় গ্যাস থাকছে না। রান্নার মতো প্রয়োজনীয় কাজেও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।

রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা গৃহিণী পারভীন বলেন, সারাদিন চুলায় গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। রাতে গ্যাস এলে তখন রান্না শেষ করতে হয়।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. সুমন জানান, গ্যাসের চাপ এত কম যে রান্না করতে অনেক বেশি সময় লাগছে। ফলে প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

গ্যাসের বিকল্প হিসেবে অনেকেই সিলিন্ডার ও ইনডাকশন চুলা ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ। আবাসিক বিলের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থার ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, তিতাসের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ১৯০ কোটি ঘনফুটের মতো। এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় তা ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। টার্মিনাল ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়।

সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা

গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে চাপ। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।

মগবাজারের একটি সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষারত চালক মো. আল আমিন বলেন, যে স্টেশনেই যাচ্ছেন, সেখানেই গ্যাস সংকটের কথা শুনতে হচ্ছে। কোথাও গ্যাস থাকলেও চাপ কম থাকায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

আরেক চালক মো. কাউছার বলেন, দৈনিক ট্রিপের জন্য যতটুকু গ্যাস প্রয়োজন, তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ট্রিপ কমাতে হচ্ছে এবং আয়ও কমে যাচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের দাবি

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে এমন সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে। দেশে গ্যাসের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু উত্তোলনে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দিয়ে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এ উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হতো।

আরএন


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝