টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর-ধনবাড়ী সড়কের একটি অংশ পুকুরে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে ধীরে ধীরে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টিতে সড়কের গর্তে পানি জমে কাদামাটিতে পরিণত হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর পাগলাবাড়ী মোড় থেকে বাজিতপুর (শ্যামলার চর) দক্ষিণপাড়া সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিমের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি।
স্থানীয়রা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। ট্রাক, সিএনজি, লেগুনা, নছিমন, করিমন, ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে।
কদমতলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুবীন হাসান, সাইদুর, রিয়া মনি ও তানজিলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “বৃষ্টির দিনে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। কাদার কারণে ভ্যান-রিকশা চলাচল করতে পারে না, এমনকি খালি পায়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে যায়। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার বা পাকা করার দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান, শফিকুল ইসলাম, সিরাজ, ফজলুল, আব্দুল বারেক, খলিলুর রহমান, সাদ্দাম হোসেন ও আল ফরিদসহ অনেকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা শুনে আসছেন সড়কটি পাকা করা হবে। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
তারা অভিযোগ করেন, সড়কের পাশে সোলায়মান হোসেন সোলায়মান নামে এক ব্যক্তি সরকারি অনুমোদন ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে গভীর পুকুর খনন করেছেন। এ সময় পুকুরের পাড়ে থাকা সরকারি রাস্তার পাশের বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এর ফলে সড়কের মাটি ক্ষয় হয়ে বর্তমানে পুকুরের দিকে ধসে পড়ছে এবং রাস্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এ বিষয়ে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়রা আরও জানান, বৃষ্টির সময় সড়কটি ব্যবহার করা না গেলে তাদের প্রায় ৮ কিলোমিটার ঘুরে রাজারহাট অথবা বানিয়াজান বাসস্ট্যান্ড হয়ে ধনবাড়ী শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটোই বেড়ে যায়। ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত পাকা ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মানস কুমার সাহা বলেন, “বাজিতপুর-কদমতলী সড়কটি পাকা করার জন্য পরিমাপ করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
এইচআর/এসআর