ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বোর্দো শহরের মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শহরের মেয়র থমাস কাজেনাভ। সম্ভাব্য নতুন করে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাবানল পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তিনি একে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রবল বাতাসের কারণে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান তিনি।
এ পর্যন্ত ফ্রান্সে ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জিরোন্দ অঞ্চলে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বন ও জমি পুড়ে গেছে। আগুনে ধ্বংস হয়েছে অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর।
এদিকে প্রতিবেশী স্পেনেও ভয়াবহ দাবানল অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে আগুনের কারণে ১ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে এবং আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটিতে ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে এবং ১৩ হাজার ৫০০টির বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে।
তার ভাষ্য, প্রতি ১০টি দাবানলের মধ্যে ৯টিই মানুষের অসাবধানতা বা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর কারণে সৃষ্টি হচ্ছে। সরকার তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
-টিএস