ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
জলঢাকায় অস্তিত্বহীন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ লুটের অভিযোগ
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৯ এএম
X
Advertisement

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কাগজে-কলমে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক প্রকল্পের বাস্তব অস্তিত্ব নেই, আবার একই রাস্তার নামে একাধিকবার বরাদ্দ নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের যোগসাজশে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৈমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ঘাটে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তা সেচ ক্যানেল ব্রিজ থেকে দুর্গা মন্দির পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও এইচবিবি (HBB) করণের জন্য ৫ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই রাস্তা সংস্কারের নামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবারও ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় পথচারী সামছুল হক বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের করা রাস্তায় বারবার বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা উপিল ও বিজেন চন্দ্র রায়সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, কিশোরগঞ্জের ‘মেসার্স সালাম ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত অংশের কাজ সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট অংশ স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সম্পন্ন করা হয়। অথচ পরবর্তীতে একই রাস্তার নামে দুই দফা সরকারি বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের বিষয়ে এলাকাবাসীকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এছাড়া সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রকল্পস্থলে তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি।

প্রকল্পের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য তবিবুল ইসলামের কাছে প্রকল্প কমিটির সদস্যদের নাম জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তার এমন বক্তব্য প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে গোলনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে লুৎফরের বাড়ি থেকে হাকিনুরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নামমাত্র ইট ব্যবহার করায় কয়েক দিনের মধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রতিটি প্রকল্পে স্ট্যাম্প খরচের নামে প্রকল্প কমিটির কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ২ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি প্রকল্প কমিটিকে ডিও কপি না দিয়ে বহিরাগতদের হাতে ডিও কপি তুলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সচেতন মহলের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকির অভাবে প্রকল্প সভাপতিরা অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জলঢাকা উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে টিআর প্রকল্প ১০০টি, কাবিটা ৬৫টি, গম ও চালের ২৪টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে টিআর ৪৯টি, কাবিটা ৩৬টি ও গম-চালের ২২টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বিপুল সংখ্যক এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অনিয়ম বা ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সরকারি অর্থের অপচয়, নিম্নমানের কাজ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা সরকারি বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এইচএস/আরএন
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement