ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
পাবনায় নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের হাতাহাতি
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৫ পিএম আপডেট: ২৪.০৭.২০২৬ ৯:৪৭ পিএম
X

পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকায় জুমার নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের ঠিক আগে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে এবং পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত ১৭ জুলাই শুক্রবার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে যান। তবে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের আপত্তির কারণে তিনি নামাজ পড়াতে পারেননি।

এরপর শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি আবার ওই মসজিদে নামাজ পড়াতে গেলে খুতবা শুরুর সময় উপস্থিত বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন। এ সময় মসজিদের ভেতরেই সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সামনে জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় আগে থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ সম্পন্ন হয়।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম অভিযোগ করে বলেন, দলীয় প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে জামায়াতের সংসদ সদস্য গত ১৭ জুলাই জুমার নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে তা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার আবার তিনি লোকজন নিয়ে মসজিদে এসে ইমামের কাছ থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে বক্তব্য, খুতবা ও নামাজ পড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা আপত্তি করলে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির কর্মীরা হট্টগোল শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাহাত (২২) বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, স্থানীয় পৌর জামায়াতের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং মসজিদ কমিটির অনুমতি নিয়েই ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের জুমার নামাজ পড়ানোর কথা ছিল। মসজিদে উপস্থিত হয়ে তিনি মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বক্তব্য শেষে খুতবা দেওয়ার সময় বিএনপির কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, তিনি ক্ষমতা প্রদর্শন বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাননি। স্থানীয়দের অনুরোধেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। গত জুমাতেও স্থানীয়রা অনুরোধ করলেও ঝামেলার আশঙ্কায় তিনি যাননি। পরে শুক্রবার কোনো সমস্যা হবে না জানিয়ে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি মসজিদে যান।

তিনি অভিযোগ করেন, খুতবার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঝামেলা সৃষ্টি করেন। গোপীনাথপুরের বাসিন্দা পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ এলাকার বাইরের অনেক নেতাকর্মীকে এনে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তার দাবি, স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়েছে এবং পরে এক কর্মীর দোকানে হামলা, লুটপাট ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যের নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলার আশঙ্কায় পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। এ কারণে সেখানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এরপরও নামাজের আগে মসজিদের ভেতরে কথা কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারধর বা আহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

জেইউ/আরএন


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝