টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বাশারচালা ও কাকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুড়ি গ্রামের মধ্যবর্তী মরিচকুঁড়ি খালের ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোই দুই গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। বাঁশের সাঁকোটির উত্তর পাশে রয়েছে মরিচকুড়ি ও জিতাশ্বরী গ্রাম, দক্ষিণ পাশে রয়েছে সাড়াশিয়া, বাশারচালা ও নয়ারচালা গ্রাম। পশ্চিমে মহানন্দপুর এবং পূর্বে রয়েছে সাড়াশিয়া গ্রাম।
একসময় আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামের মানুষ এ ধরনের বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করতেন। তবে আধুনিকায়নের যুগেও স্থানীয় এই দুই গ্রামের মানুষের ভাগ্যে জোটেনি খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু। প্রতিদিন দুই গ্রামের হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটির আশপাশে রয়েছে মহানন্দপুর বিজয় স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, মহানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিতাশ্বরী দাখিল মাদরাসা, জিতাশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাড়াশিয়া-বাশারচালা উচ্চ বিদ্যালয়, সাড়াশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুল ও মাদরাসায় যাতায়াত করে।
এ ছাড়া মহানন্দপুর ও বাশারচালা বাজারে প্রতি সোমবার ও বুধবার গ্রাম্য হাট বসে। মরিচকুড়ি ও বাশারচালা গ্রামের হাজারো মানুষ ওই হাটে যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
দুই গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হতে হয়। বিশেষ করে বৃদ্ধ মানুষ, শিশু ও জরুরি রোগীদের চলাচলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মরিচকুঁড়ি এলাকার এই খালের ওপর নির্মিত সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। তাই মরিচকুড়ি ও বাশারচালা গ্রামের মানুষের একমাত্র দাবি, তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এতে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং চলাচলে স্বস্তি ফিরবে।
কাকড়াজান ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আমীর হামজা সিকদার বলেন, “দুই গ্রামের মানুষের এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমি নিজ খরচে খালের ওপর সাময়িকভাবে চলাচলের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছি।”
মহানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, “আমি কয়েকবার এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়েছি। শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও সাধারণ মানুষের কষ্ট আমি দেখেছি। এ দুর্ভোগে আমি ব্যথিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা হোক।”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাঁশের সাঁকোগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সাঁকোর স্থানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এসএস/আরএন