ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: স্বজন হারানোর শোক আজও কাটেনি
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ এএম আপডেট: ২১.০৭.২০২৬ ১১:৩১ এএম
X

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখর স্কুল প্রাঙ্গণ মুহূর্তেই পরিণত হয় মৃত্যু, আর্তনাদ আর স্বজন হারানোর বেদনায়।

মর্মান্তিক ওই ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। দগ্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা স্থানীয়রা। আহতদের মধ্যে অনেককেই ভর্তি করা হয় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাইলস্টোন স্কুল ও হাসপাতালে ছুটে আসেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বজনরা। বিভীষিকাময় সেই দিনের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থীদের।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে সন্তান হারানো পরিবারগুলোর শোক এক বছরেও কাটেনি। প্রিয় সন্তানকে হারানোর সেই ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।

দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহতাব রহমানের বাবা মিনহাজ রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছেলেটার পড়ার টেবিলটা এক বছর ধরে একইভাবে পড়ে আছে। প্রতিদিন ওর মা বইগুলো মুছে দেয়, গুছিয়ে রাখে। মাহতাবকে ছাড়া আমরা কেউ ভালো নেই। আমাদের বাসাটা আগে প্রাণবন্ত ছিল, এখন মনে হয় কবরস্থানের মতো।’

নিহত তাসনিম আফরোজ আয়মানের মা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘সরকার ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিল। আমরা এক টাকাও ছুঁইনি। টাকা দিয়ে আমি কী করব? সারা দুনিয়া এনে দিলেও কি আমার আয়মান ফিরে আসবে? আমি তো বলেছিলাম, আমি উল্টো টাকা দিই-আমার আয়মানকে এক সেকেন্ডের জন্য আমার বুকে এনে জড়িয়ে ধরতে দেন।’

নিহত শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদের বাবা রুবেল মিয়া বলেন, ‘সকালে যে সন্তানকে নিজের হাতে স্কুলে দিয়ে এসেছিলাম, দুপুরে তাকে ফিরে পেয়েছি লাশ হিসেবে।’

তিনি বলেন, ‘আগে দুই ছেলেকে প্রতিদিন সকালে স্কুলে নিয়ে আসতাম। এখন শুধু ছোট ছেলেকে নিয়ে আসি। স্কুলে যখন আসি, শত শত ছাত্রছাত্রীর মাঝে আমি আমার তানভীরকে খুঁজে বেড়াই। কিন্তু কোথাও পাই না। শুধু ওর শেষ দিনের হাসিমুখ আর স্মৃতিগুলো বুকে ধাক্কা দেয়। আজ একটি বছর পার হয়ে গেছে, বড় ছেলের সেই হাসি এখনো আমার চোখে ভাসে।’

উল্লেখ্য, বিমানবাহিনীর এফ-৭ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ৩৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই মর্মান্তিক দিনের ক্ষত এখনো শুকায়নি। সন্তান হারানো পরিবারগুলোর কাছে সময় যেন থমকে আছে-স্মৃতিতে, শোকে আর অপূরণীয় এক শূন্যতায়।

-টিএস


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝