মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
মঙ্গলবার সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে সরকারের পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক সংস্কার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গুমের অভিযোগ, মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, "মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়ে আমার কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। আমি গণমাধ্যমেই এ ধরনের আলোচনা দেখছি। এর বেশি কিছু জানি না।"
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন। তাঁর মূল্যায়নে যদি কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টার কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক না হয়, তাহলে জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন, কোনো জায়গায় আরও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাহলে তিনি সেটি করবেন। তবে এটি সরকারের ১৮০ দিন পূর্তির সঙ্গে সঙ্গে হবে, নাকি আরও কিছু সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।"
সংবাদ সম্মেলনে সাইবার বুলিং ও অপতথ্য প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কেও কথা বলেন তিনি। ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, এ-সংক্রান্ত আইনগত বিষয় দেখভালের জন্য একটি আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। কার্যবিধি (রুলস অব বিজনেস) অনুযায়ী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টনের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত।
এসআর