২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে হজযাত্রীদের নিবন্ধন, অর্থ জমা, ভিসা প্রক্রিয়া, বিমান টিকিট, সৌদি আরবে আবাসন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি-উভয় ব্যবস্থার হজযাত্রী, হজ এজেন্সি, এয়ারলাইন্স, ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এসব নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাথমিক নিবন্ধন বাবদ জমা দেওয়া ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বিমান ভাড়া বাবদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা হজযাত্রীর সৌদি আরবের খরচ নির্বাহের জন্য পাঠানো হবে। হজ প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ জমা নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এজেন্সি হজযাত্রীকে পিলগ্রিম আইডি প্রদান করবে।
প্রাক-নিবন্ধনের অর্থ থেকে নির্ধারিত ৫ হাজার ৫৬৫ টাকা ১৯ পয়সা কর্তনের পর অবশিষ্ট ২৪ হাজার ৪৩৫ টাকা এবং প্রাথমিক নিবন্ধনের ২ লাখ ২০ হাজার টাকা- সব মিলিয়ে একজন হজযাত্রীর জন্য মোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৫ টাকা সৌদি আরবে পাঠানো হবে। প্যাকেজ অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে তা সৌদি রোডম্যাপ অনুযায়ী ২৪ ডিসেম্বর ২০২৬-এর আগে আইবিএএস হিসাবে পাঠাতে হবে।
প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত হজযাত্রীদের ১০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময় সরকারি ব্যবস্থার হজযাত্রীদের প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ নির্ধারিত সরকারি হিসাবে এবং বেসরকারি ব্যবস্থার হজযাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে। প্রাক-নিবন্ধনের অর্থ থেকে প্রসেসিং ফি হিসেবে ১ হাজার টাকা কেটে রাখা হবে। নিবন্ধনের সময় হজের ধরন-তামাত্তু, ইফরাদ বা কিরান-নির্ধারণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা নির্বাচন করতে হবে।
কোনো হজযাত্রীর লিখিত অনুমতি ছাড়া প্রাক-নিবন্ধন বা নিবন্ধন বাতিল কিংবা এজেন্সি পরিবর্তন করা যাবে না। এজেন্সির অনুমতি ছাড়া এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা অনিয়ম বা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। নিবন্ধন বাতিলের সময় হজযাত্রীর মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠানোর বিধানও রাখা হয়েছে। কোনো হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে সাত দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যথায় বিষয়টি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিষ্পত্তি করবে।
নিবন্ধিত হজযাত্রী মারা গেলে মৃত্যু সনদ ই-হজ সিস্টেমে আপলোড করে প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে মৃত হজযাত্রীর পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অসুস্থতার কারণে হজে যেতে অক্ষম হলে চিকিৎসকের প্রতিবেদন বা সনদের ভিত্তিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় হজযাত্রী প্রতিস্থাপন করা যাবে।
সৌদি আরবের নুসুক মাসার সিস্টেমে ২৮ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হয়ে ৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য হজযাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, মেডিকেল ফিটনেস সনদ ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে।
সরকারি ব্যবস্থার হজযাত্রীরা এসব কাগজপত্র ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয় বা হজ অফিস, ঢাকায় জমা দেবেন। বেসরকারি ব্যবস্থার হজযাত্রীরা সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কাছে তা জমা দেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য না দিলে হজযাত্রার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। মক্কা ও মদিনায় ভাড়া করা বাড়ি বা হোটেলের তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি ই-হজ সিস্টেমে ভিসা লজমেন্ট করতে হয়। ফলে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর হজযাত্রীর হোটেল পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
সৌদি সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম হজযাত্রী কোটা কোনো এজেন্সি এককভাবে বা সমন্বয়ের মাধ্যমে পূরণ করতে পারলে সেই এজেন্সি বা লিড এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রী পাঠানো যাবে। হজ নিবন্ধনের আগে যোগ্য এজেন্সিগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে গ্রুপ বা অ্যালায়েন্স গঠন করতে হবে। গ্রুপভুক্ত এজেন্সিগুলোকে ২৮ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে লিড এজেন্সি নির্বাচন করে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া গ্রুপ পরিবর্তন করা যাবে না।
প্রতিটি এজেন্সিকে সরকার অনুমোদিত সাধারণ হজ প্যাকেজ গ্রহণ করতে হবে। তবে হোটেলের মান ও দূরত্ব, তাঁবুর জোন এবং মিনা-আরাফাতে সেবা বিবেচনায় গ্রুপের সমন্বয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে।
একটি এজেন্সিকে ন্যূনতম ৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করতে হবে। একজন হজ গাইডের সঙ্গে ৪৪ জন হজযাত্রী থাকার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক হজযাত্রী না থাকলে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের অন্য এজেন্সিতে স্থানান্তর করে হজ পালনের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য একজন আরবি ভাষায় দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন ও হজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গাইড নিয়োগ করতে হবে। গাইডকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
মিনা, আরাফাহ, মুজদালিফা ও জামারাতসহ হজের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে গাইড তার আওতাধীন হজযাত্রীদের সার্বিক সহায়তা করবেন। প্রশিক্ষণে অকারণে অনুপস্থিত থাকা কিংবা গাইডের পরিবর্তে হজযাত্রীকে প্রশিক্ষণে পাঠানো হলে তা এজেন্সির অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে।
সৌদি সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সৌদি ই-হজ সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ, ক্যাটারিং, মক্কা ও মদিনায় বাড়ি বা হোটেল এবং পরিবহন কোম্পানির সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। হজযাত্রীদের বায়োমেট্রিক, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা ও ফিটনেস সনদ সংগ্রহ করে ২৮ জানুয়ারি থেকে ভিসার আবেদন করতে হবে। ৯ মার্চের মধ্যে সব নিবন্ধিত হজযাত্রীর ভিসা আবেদন নুসুক মাসার সিস্টেমে জমা নিশ্চিত করতে হবে।
হজযাত্রীর বিমান ভাড়ার জন্য প্রতি হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা হিসাবে লিড এজেন্সি ই-হজ সিস্টেমে ভাউচার তৈরি করে এয়ারলাইন্সকে পে-অর্ডার করবে। সমন্বয়কারী এজেন্সি সরাসরি বিমান টিকিটের পে-অর্ডার করতে পারবে না। ফ্লাইট সিডিউলের মধ্যবর্তী ১১ দিনের মধ্যে একটি এজেন্সির মোট হজযাত্রীর অন্তত ২০ শতাংশকে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। কোনো এজেন্সি তার সব হজযাত্রীকে প্রি-হজ ফ্লাইটের শুরু বা শেষ পর্যায়ে একসঙ্গে পাঠাতে পারবে না।
ফ্লাইট ছাড়ার কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা আগে হজযাত্রীর প্রি-অ্যারাইভাল ডাটা সৌদি ই-হজ সিস্টেমে এন্ট্রি করতে হবে। টিকিট ও পাসপোর্টের সঙ্গে ভিসা সংযুক্ত করে হজযাত্রীকে দিতে হবে এবং লাগেজে বাড়িভিত্তিক স্টিকার বা আরএফআইডি ট্যাগ লাগাতে হবে।
হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সগুলোকে কোটা বরাদ্দ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ফ্লাইট সিডিউলের খসড়া তৈরি করে অনুমোদনের জন্য জিএসিএ-তে পাঠাতে হবে। অনুমোদিত ফ্লাইট সিডিউল ১২ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রকাশ করে এয়ারলাইন্সের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও হজ পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
এজেন্সির কাছ থেকে টিকিটের চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এয়ারলাইন্সকে টিকিট প্রদানের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। পে-অর্ডার পাওয়ার পর দ্রুত পিএনআর পাঠাতে হবে। ই-হজ সিস্টেমের বাইরে ইস্যু করা কোনো পে-অর্ডার গ্রহণ করা যাবে না।
টিকিট ইস্যুর সঙ্গে সঙ্গে টিকিট নম্বর ও ফ্লাইট নম্বর এসএমএস-এর মাধ্যমে হজযাত্রীকে জানাতে হবে। ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব, সংযোজন বা সংশোধন হলে এয়ারলাইন্সকে তাৎক্ষণিকভাবে ই-হজ সিস্টেমে তথ্য হালনাগাদ করতে হবে এবং হজযাত্রীকে এসএমএস ও এজেন্সিকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানাতে হবে।
দুর্ঘটনা, গুরুতর অসুস্থতা, ভিসা জটিলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটে যেতে না পারলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবহিত করে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে অনুপস্থিতিজনিত কোনো চার্জ প্রযোজ্য হবে না।
হজে যাওয়ার আগে কোনো হজযাত্রী মারা গেলে তার টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে হবে। সৌদি আরবে গিয়ে কোনো হজযাত্রী মারা গেলে তার পরিবারের কাছে বিমান ভাড়ার ৫০ শতাংশ ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত ফ্লাইটে যেতে না পারার কারণে কোনো হজযাত্রীর টিকিট পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও হজ অফিসকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এয়ারলাইন্সকে জানাতে হবে।
হজযাত্রীদের মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে সিভিল সার্জন বা অনুমোদিত চিকিৎসকের কাছ থেকে ফিটনেস সনদ নিতে হবে।
গুরুতর হৃদ্রোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, গুরুতর স্নায়বিক বা মানসিক রোগ, ডিমেনশিয়া, নির্দিষ্ট ক্যানসার চিকিৎসাধীন রোগী এবং ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত কারণে ফিটনেস সনদ না পাওয়ার বিধান রয়েছে।
হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার আগে থেকে শেষ ফ্লাইট পর্যন্ত টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
একজন হজযাত্রী সর্বোচ্চ দুটি ট্রলি ব্যাগে মোট ৪৬ কেজি এবং ৭ কেজি ওজনের একটি হ্যান্ডব্যাগ নিতে পারবেন। ট্রলি ব্যাগে হজযাত্রীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ যুক্ত মোবাইল নম্বর এবং এজেন্সি বা গাইডের মোবাইল নম্বর লিখে রাখতে হবে।
নেশাজাতীয় দ্রব্য, তামাক, জর্দা, পান, শুকনা মাছ, গুড়, রান্না করা খাবার ও পচনশীল দ্রব্যসহ নিষিদ্ধ পণ্য বহন করা যাবে না। এসব পণ্য বহন করলে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে আইনগত জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিয়মিত ওষুধ সেবনকারী হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশনসহ পর্যাপ্ত ওষুধ সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার হজযাত্রীদের ফ্লাইটের অন্তত ছয় ঘণ্টা আগে এবং ঢাকার বাইরের হজযাত্রীদের অন্তত এক দিন আগে আশকোনা হজ ক্যাম্পে পৌঁছাতে হবে। হজ ক্যাম্পের ডরমিটরিতে বিনামূল্যে থাকার সুযোগ থাকবে।
মক্কা রোড সার্ভিসের আওতায় যাওয়া হজযাত্রীদের বোর্ডিং ও ইমিগ্রেশন হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন হবে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর লাগেজ সরাসরি হোটেল বা বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
সৌদি আরবে অবস্থানকালে হজযাত্রীদের নুসুক কার্ড, মোয়াল্লেম কার্ড, হোটেল কার্ড ও বাংলাদেশ থেকে দেওয়া পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। নুসুক কার্ড ছাড়া হোটেলের বাইরে বের হলে সৌদি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ বা আটকের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা হজ গাইডের সঙ্গে দলগতভাবে সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একা জামারাতে যাওয়া, তাঁবু থেকে বিচ্ছিন্নভাবে চলাফেরা বা মক্কায় একা যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
হজ কার্যক্রমের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সোনালী ব্যাংক পিএলসি লিড ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ই-হজ সিস্টেমে প্রস্তুত করা ভাউচার অনুযায়ী হজযাত্রীর জমা গ্রহণ করে সনদ দিতে হবে।
হজযাত্রীর সৌদি পর্বের খরচের অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হিসাবে স্থানান্তর নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে হজযাত্রীদের জমা করা অর্থের বিপরীতে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এ ধরনের ঋণ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দায় বহন করতে হবে।
হজ ব্যবস্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ইমিগ্রেশন, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর, ট্রাফিক, বিদ্যুৎ, অগ্নিনিরাপত্তা ও হজ ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।
হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকতে হবে। হজযাত্রীর তথ্য যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, এমআরপি ও ই-পাসপোর্টের সঙ্গে ই-হজ সিস্টেমের আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হজ ক্যাম্পে ফ্লাইট শুরুর আগে প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা, মশা নিধন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হজ ফ্লাইট চলাকালে তথ্য প্রচারের জন্য তথ্য অধিদপ্তরের টিমও প্রস্তুত থাকবে।
হজযাত্রীর অর্থায়নে ক্রয় করা জমজম পানি দেশে আনার ব্যবস্থা করবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স। দেশে ফেরার সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রত্যেক হজযাত্রীকে পাঁচ লিটারের একটি বোতল জমজম পানি সরবরাহ করবে।
অতিরিক্ত ক্রয়কৃত জমজম পানি এবং সৌদি আরবে মৃত্যুবরণকারী বা দেশে না ফেরা হজযাত্রীর জমজম পানি হজ-পরবর্তী শেষ ফ্লাইটের তিন দিনের মধ্যে হজ অফিস, ঢাকায় জমা দিতে হবে।
সৌদি আরব থেকে হজযাত্রীপ্রতি সৌদি পর্বের চূড়ান্ত ব্যয়ের হিসাব পাওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের বিভিন্ন ব্যয়ের খাত সমন্বয়, বৃদ্ধি বা হ্রাস করতে পারবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
হজ সংক্রান্ত তথ্য ও নির্দেশনা হজ পোর্টালের মাধ্যমে জানা যাবে। এছাড়া হজযাত্রীরা নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য ও সহায়তা নিতে পারবেন। হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট তথ্যও হজ পোর্টালে পাসপোর্ট বা ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে যাচাই করা যাবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হজ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সীমা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।