সাম্প্রতিক সময়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন জি.কে.বি. অ্যান্ড কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. গোলাম কিবরিয়া (জিকে) শামীম। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে একক নিয়ন্ত্রণ চান জিকে শামীম’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনের পর তিনি লিখিত বক্তব্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে জিকে শামীম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। তবে ব্যক্তিজীবনে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ঠিকাদারি জীবনে তার সম্পাদিত কাজের মান নিয়ে কখনো প্রশ্ন ওঠেনি। তার দাবি, প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার চলমান প্রকল্প থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তাকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দীর্ঘ ছয় বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। এ সময় তার বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও মালামাল লুট হয়ে যায়, চলমান কাজ অন্যরা দখল করে নেয় এবং বিল আটকে দেওয়ায় তিনি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
জিকে শামীমের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছিল। অতীতে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের নেতারা তার ব্যবসায়িক ক্ষতি করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, তাকে ‘যুবলীগের নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও তৎকালীন যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি কখনোই যুবলীগের কোনো কমিটিতে ছিলেন না এবং সংগঠনটির রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন না।
ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ প্রসঙ্গে জিকে শামীম দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো দিন তিনি ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং এ বিষয়ে তার কোনো সংশ্লিষ্টতাও নেই। তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট কোনো ভিডিও, ছবি বা অন্য কোনো প্রমাণ থাকলে তা জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি। এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ শাস্তি মেনে নিতেও প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণেই তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের সময় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ব্যাংক হিসাব জব্দ, সম্পদ ক্রোক এবং ৯০ বছর বয়সী মাকেও কারাগারে যেতে হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় তার ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রেলওয়ের বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জিকে শামীম বলেন, ‘রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে একক নিয়ন্ত্রণ চান জিকে শামীম’—এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আদালতের নির্দেশে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি মাত্র একবার রেল ভবনে গিয়েছেন বলে জানান। তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট কাজ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে এবং তার প্রতিষ্ঠানও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পেয়েছে। এতে কোনো অনৈতিক বা অসৎ উপায় অবলম্বন করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মানিলন্ডারিং ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগও অস্বীকার করেন জিকে শামীম। তিনি বলেন, জীবনে কখনো দেশের বাইরে অর্থ পাচার করেননি। তার কোনো সন্তান বিদেশে পড়াশোনা করে না এবং দেশের বাইরে তার কোনো সম্পদও নেই। তার দাবি, তার সব সম্পদ বৈধভাবে অর্জিত এবং তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ করদাতা। তার প্রতিষ্ঠান ১৯৯১ সাল থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আসছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিজ্ঞাপন নীতিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে রেলওয়েকে অনুরোধ করা হয়েছে। জিকে শামীমের দাবি, এটি প্রমাণ করে তার প্রতিষ্ঠান সব ধরনের নিয়মকানুন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করতে আগ্রহী।