ইউক্রেনের জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে অপসারণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। খবর বিবিসির।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বেশির ভাগ তরুণ-তরুণীসহ অনেক বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল ‘ফেদোরভকে সরানো চলবে না’, ‘বিজয়ের পথে বাধা দেওয়া বন্ধ করো’ লেখা নানা প্ল্যাকার্ড এবং এসময় তারা ‘লজ্জা! লজ্জা’ বলেও স্লোগান দেন।
ভলোদিমির জেলেনস্কির এই সিদ্ধান্তে দেশটির বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও নাগরিক সমাজের একাংশের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ফেদোরভকে সরানোর পেছনে তার সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির বিরোধ কাজ করেছে, এমন একটি আলোচনা চলছিল। পরে ফেদোরভ ও জেলেনস্কির বক্তব্যে সেই ধারণাই আরও জোরালো হয়।
ফেদোরভ জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি এবং চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ আন্দ্রি হ্নাতভকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
একই দিন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি স্বীকার করেন, জেনারেল স্টাফ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে কাঠামোগত দ্বন্দ্ব ছিল। তার মধ্যস্থতা ছাড়া সিরস্কি ও ফেদোরভ একসঙ্গে কাজ করতে পারতেন না।
ফেদোরভ নিজেও সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রেসিডেন্ট যখন জানিয়ে দিলেন যে তিনি সিরস্কিকে বদলাবেন না, তখন আমি বলেছিলাম যে তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, আমরা যেসব উদ্যোগ নিয়েছিলাম, সেগুলোর সবই আটকে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইয়েভহেন খমারাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক ঘোষণায় জেলেনস্কি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে খমারার নাম আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পাঠানো হবে।
এসএ