রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া বিপন্ন প্রজাতির দুটি বড় আকারের বাগাইড় মাছ বিক্রি হয়েছে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টাকায়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে জাল ফেলেন স্থানীয় জেলে চালাক ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার জেলে নয়ন হালদারসহ তাঁদের সহযোগীরা।
ভোরে রাজবাড়ীর গুদারবাজার এলাকা থেকে পদ্মা নদীতে বড় মাছ ধরার জাল ফেলে ভাটির দিকে ভাসতে থাকেন জেলেরা। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে জাল টানার সময় নয়ন হালদার বুঝতে পারেন, বড় একটি মাছ ধরা পড়েছে। জাল গুটিয়ে নৌকায় তোলার পর দেখা যায়, সেটি একটি বিশাল আকৃতির বাগাইড়। পরে মাছটি বিক্রির জন্য তিনি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ে আসেন। ওজন করে দেখা যায়, মাছটির ওজন প্রায় ৩২ কেজি। পরে নিলামে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ মাছটি কিনে নেন।
মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ জানান, তিনি প্রায় ৩২ কেজি ওজনের বাগাইড়টি জেলের কাছ থেকে কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকা দরে মোট ৬৪ হাজার টাকায় কিনেছেন। পরে সকাল ১০টার দিকে মাছটি সিলেটের আমেরিকাপ্রবাসী শফিকুল ইসলামের কাছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা লাভে মোট ৭০ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন।
এদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় দৌলতদিয়ার বাহিরচর এলাকায় স্থানীয় জেলে তারা মণ্ডলের জালে প্রায় ২৬ কেজি ওজনের আরেকটি বাগাইড় ধরা পড়ে। শাহজাহান শেখ মাছটি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে ৪১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনে নেন। পরে সেটিও তিনি সিলেটের শফিকুল ইসলামের কাছে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা লাভে ৪৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেন। দুটি মাছ বিক্রি করে তিনি মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা পেয়েছেন।
মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বলেন, “পদ্মার বড় বাগাইড় মাছের চাহিদা সব সময়ই বেশি। ভালো দামের আশায় মাছ দুটি কিনেছিলাম। অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুত বিক্রি করতে পেরে লাভবান হয়েছি।”
গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, ইলিশ আহরণে মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা থাকায় বর্তমানে নদীতে অন্যান্য বড় মাছ বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে কাতল, রুই, বোয়াল, বাগাইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ এখন তুলনামূলক বেশি ধরা পড়ছে। তিনি আরও বলেন, নদীতে স্থায়ী অভয়াশ্রম গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের মাছ পাওয়া সম্ভব হবে।
এসআই/আরএন