রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় আকস্মিক বন্যা ও শ্রমিক সংকটে সহস্রাধিক হেক্টর পাটক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই দিগুণ মজুরি দিয়েও পাট কাটার শ্রমিক পাচ্ছেন না। ফলে অপরিপক্ব অবস্থায় পাট কাটা কিংবা ক্ষেতেই তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাগমারা উপজেলার কোনাবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ সরদার বলেন, চলতি মৌসুমে সাড়ে চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে সাড়ে তিন লাখ টাকারও বেশি লোকসান গুনতে হয়েছে। সেই লোকসানের কিছুটা গোয়ালের গরু বিক্রি করে এবং বাকিটা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছেন। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় একই জমিতে উন্নত জাতের পাট চাষ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সেই পাটক্ষেতও তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “দিগুণ মজুরি দিয়েও পাট কাটার শ্রমিক মিলছে না। পাট যদি তলিয়ে যায়, তাহলে এবারের লোকসান কী দিয়ে পুষাব? গোয়ালে তো একটিও গরু অবশিষ্ট নেই।”
একই চিত্র উপজেলার শ্রীপতীপাড়া গ্রামের কৃষক কেরান্দি মোল্লার ক্ষেতেও। তিনি বলেন, “এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হওয়ার কথা। সেই হিসাব করে তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। কিন্তু যত পানি বাড়ছে, মনে হচ্ছে সব তলিয়ে যাবে।”
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বাগমারা উপজেলায় ছোট-বড় ৮১৬টি ব্রিজ ও কালভার্ট রয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক ব্রিজ-কালভার্টের মুখ মাছ চাষ ও বাড়ি নির্মাণের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বন্যার পানি দ্রুত নেমে যেতে পারছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, অতিবৃষ্টি ও উজানের পানির সঙ্গে এই প্রতিবন্ধকতাও কৃষকদের ক্ষতির অন্যতম কারণ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাগমারায় ১ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চলতি মৌসুমে তোসা জিআরও-৫২৪ (ভারতীয়) ও মাস্তেও-৯৮৯৭ (দেশি) জাত মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় বাঘা উপজেলায় ৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর, চারঘাটে ৩ হাজার ১৫০, গোদাগাড়ীতে ৮৭৫, বাগমারায় ১ হাজার ৫১০, পুঠিয়ায় ৩ হাজার ২২০, দুর্গাপুরে ১ হাজার ৫০০, তানোরে ৩, পবায় ২ হাজার ৯০, মোহনপুরে ৫০ এবং রাজশাহী মহানগর এলাকায় ৭ হেক্টরসহ মোট ১৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমএএইচ/এসআর