সারা দেশের অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগের মধ্যে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বেশ কয়েকটি মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান বন্ধ থাকলেও সরকারি বই বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলায় মোট ৭৫টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুদান পায়। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, চলতি শিক্ষাবর্ষে উপজেলার ৭৫টি মাদ্রাসাতেই সরকারি বই বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা পরিদর্শনে দেখা যায়, কাফুরা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষগুলো তালাবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানের নথিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর তথ্য থাকলেও সেখানে কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কেবল কয়েকজন শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে।
একই চিত্র দেখা গেছে খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাঁজর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, কুসুম্বি ইউনিয়নের দারুগ্রাম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং ভবানীপুর ইউনিয়নের ইতালি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাসহ উপজেলার আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। কোথাও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে না, আবার কোথাও শিক্ষার্থীর উপস্থিতির কোনো প্রমাণ মেলেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ২০১৯ সালে করোনা মহামারির আগে কয়েকটি মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান হতো। কিন্তু শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে শিক্ষা কার্যক্রম নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে শিক্ষার্থী ও পাঠদান না থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বই বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে বই বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, "সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করে নিয়ম মেনেই বই বিতরণ করা হয়েছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, "প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে বই দেওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে প্রতিষ্ঠান চালু আছে কি না এবং শিক্ষার্থী রয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে যাচাই-বাছাই করে বই বরাদ্দ দেওয়া হবে।"
বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী বলেন, "শিক্ষার্থী না থাকলে বই বিতরণের প্রশ্নই ওঠে না। তারপরও যদি রাষ্ট্রীয় অর্থে বই বিতরণ হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয়দের দাবি, সরকারের শিক্ষা উপকরণ সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে উপজেলার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর বাস্তব অবস্থা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এসএএস/এসআর