কয়েক'শ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্তকরণ ও সংস্কার করা পাবনার ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহীর বানেশ্বর পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক দুই বছরের মাথায় বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল, দেবে যাওয়া, উঁচুনিচু অবস্থা এবং বিটুমিন-পাথর উঠে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষার বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে সড়কের এই বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়িয়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নির্মাণকাজের শুরুতেই তারা কাজের মান নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। তবে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর বাধার মুখে সেই প্রতিবাদ থেকে সরে আসতে বাধ্য হন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই সড়কের দুই পাশের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। শহরের রেলগেট থেকে আরামবাড়িয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের ২০টিরও বেশি স্থানে ফাটল, দেবে যাওয়া ও উঁচুনিচু অংশ তৈরি হয়েছে। পোস্ট অফিস মোড়, আরআরপি ভবন মার্কেটের সামনে এবং রেলগেট লেভেল ক্রসিং এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। রেলগেট মোড়ের পশ্চিম পাশে দুটি স্থানে বিটুমিন ও পাথর উঠে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত আরও বড় আকার ধারণ করায় যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পাবনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে ইট, বালু ও খোয়া ফেলে জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাটের কাজ শুরু করেছে। আরামবাড়িয়া বাজারের ঢালাই অংশের শেষ প্রান্তসহ আরও কয়েকটি স্থানে পাথর উঠে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগ এবং পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বানেশ্বর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষ হয়। প্রকল্পের জন্য প্রথম দফায় ৪৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাজ বাস্তবায়ন করে। এর মধ্যে ঈশ্বরদী অংশের ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কের প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের দায়িত্বে ছিল ডন মোজাহার এন্টারপ্রাইজ, যারা এ কাজের জন্য প্রায় ৫৭ কোটি টাকার বিল পেয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরীন ঝিনুক বলেন, সাধারণত জলাবদ্ধতার কারণেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সরেজমিনে সড়কের অবস্থা না দেখে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি পাবনা কার্যালয় ভালোভাবে জানাতে পারবে।
অন্যদিকে পাবনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার অনেক পরে তিনি পাবনা কার্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। ফলে কাজের মান বা কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এমএইচ/আরএন