উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা অতিভারী বৃষ্টির কারণে বৃদ্ধি পাওয়া তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আভাস মিলেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির সমতল নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ১০ মিটারে, যা বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের চেয়ে ৫ সেন্টিমিটার নিচে।
এর আগে একই দিন সকাল ৬টায় ওই পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে পানির স্তর ১২ সেন্টিমিটার কমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে।
সকালে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়। অনেক এলাকায় মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা। তবে দুপুরে পানি কমতে শুরু করায় নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। যদিও নিচু এলাকার অনেক স্থানে এখনও পানি জমে রয়েছে।
তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, পানি কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে উজানে আবারও ভারী বৃষ্টিপাত হলে নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। এ কারণে স্থায়ীভাবে বন্যা সমস্যা মোকাবিলায় দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, উজানের বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতির ওপর তিস্তার পানিপ্রবাহ নির্ভর করছে। বর্তমানে পানি কমতে শুরু করেছে এবং ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-টিএস