মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের মিজিকান্দি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হামলা, পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিন দফায় এলাকায় অস্ত্রের মহড়া ও ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালেও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। দিনভর চলা এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিজিকান্দি গ্রামের মো. বোরহানউদ্দিন মিজি এবং তাঁর প্রতিবেশী সরাফত আলী সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার সকালে বোরহানউদ্দিন মিজির পরিবার তাঁদের জমিতে ঘর তুলতে গেলে সরাফত আলীর পক্ষের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বন্দুক ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বোরহান মিজির পক্ষের লোকেরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে বোরহান মিজি পক্ষের জাহাঙ্গীর মিজি (৪০), শরিফ মিজি (৩২), আরিফ মিজি (২৯), কবির মিজি (৫৫), শেফালী বেগম (৩৬) ও পপি বেগম (২৮) এবং সরাফত আলী সরকার পক্ষের আলমগীর বেপারি (৬০), রবিন (২৮), দুলাল (৩০), সাব্বির বেপারি (২২), আক্তার বেপারি (২৫) ও দিলা দেওয়ান (৪০) আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়ায়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে জাহাঙ্গীর, রবিন ও দুলালসহ গুরুতর আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
বোরহান মিজির ছেলে শরিফ মিজি অভিযোগ করে বলেন, “সরাফত সরকাররা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বসতভিটা দখলের চেষ্টা করছে। সকালে আমরা ঘর তুলতে গেলে বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে আমাদের ওপর বন্দুক ও ককটেল নিয়ে হামলা চালায়। আমার ভাই জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে জখম করেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও তারা সেখানে পুনরায় হামলা করে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সরাফত আলী সরকার বলেন, “আমরা কোনো হামলা করিনি। বোরহানরাই আমাদের রেকর্ডভুক্ত জমি জোরপূর্বক দখল ও গাছপালা কেটে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। আমরা শুধু বাধা দিয়েছি, উল্টো তারাই আমাদের ওপর হামলা করেছে।”
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুহুল আমীন জানান, দুপুরে ও সন্ধ্যায় দফায় দফায় আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে আসেন। তাঁদের শরীর ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তছলিম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি অবিস্ফোরিত ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এমএইচএস/এসআর