ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের নজরে বাংলাদেশ, বদলে যাচ্ছে পাচারের চিত্র
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৫ পিএম
X

বাংলাদেশে মাদকের ধরন ও বিস্তার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। গাঁজা ও ইয়াবার মতো প্রচলিত মাদকের পাশাপাশি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে কোকেন, ক্রিস্টাল মেথ, এলএসডি, ডিএমটি, কুশ ও অন্যান্য সিন্থেটিক বা ডিজাইনার ড্রাগের ব্যবহার। আন্তর্জাতিক নারকোটিকস কন্ট্রোল বোর্ড (আইএনসিবি) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ এখন আর শুধু মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট নয়; আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটগুলোর কাছে এটি ক্রমেই একটি সম্ভাবনাময় বাজারে পরিণত হচ্ছে।

ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক গাঁজা, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইয়াবা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোকেন ও সিন্থেটিক মাদকের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অভিযানে এলএসডি, এমডিএমএ, ডিএমটি, কুশ, আইস, ম্যাজিক মাশরুমসহ ১৩ ধরনের অপ্রচলিত মাদক জব্দ হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, দক্ষিণ আমেরিকায় কোকেন উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণে বাড়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলো এশিয়ার নতুন বাজার খুঁজছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন সেই লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি। কোকেন মূলত আফ্রিকার কয়েকটি দেশ হয়ে আকাশপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। অন্যদিকে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ আসছে মিয়ানমারের শান ও কাচিন অঞ্চলের গোপন ল্যাব থেকে, আর হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ট্যাপেন্টাডলের বড় অংশ ভারতীয় সীমান্ত ব্যবহার করে দেশে ঢুকছে।

নতুন উদ্বেগের জায়গা হলো সিন্থেটিক ড্রাগের বিস্তার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব মাদক রাসায়নিকভাবে তৈরি হওয়ায় এগুলো দ্রুত পরিবর্তিত হয় এবং শনাক্ত করাও কঠিন। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, এলএসডি, এমডিএমএ, কুশ ও অন্যান্য পার্টি ড্রাগ এখন অনলাইন ডার্ক ওয়েব, এনক্রিপ্টেড অ্যাপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিসের আড়ালেও দেশে প্রবেশ করছে এসব মাদক। সম্প্রতি ঢাকায় কুশ তৈরির একটি ল্যাবের সন্ধান পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

এদিকে স্থল সীমান্তে নজরদারি বাড়ায় পাচারকারীরা এখন সমুদ্রপথকে বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। টেকনাফ ও কক্সবাজারের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র এলাকা এবং পটুয়াখালীর উপকূলকে নতুন রুট হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য দিয়েছে ডিএনসি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু সীমান্ত পাহারা দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা, ডার্ক ওয়েব পর্যবেক্ষণে বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট গঠন, উন্নত রাসায়নিক পরীক্ষাগার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক তথ্য বিনিময় আরও শক্তিশালী করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা, পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধ, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জনস্বাস্থ্যভিত্তিক উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন না হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সিন্থেটিক মাদকের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হবে। বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু মাদক প্রবেশ ঠেকানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটের নতুন বাজারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করা।


-টিএস


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝