যশোরে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার কিসমত নোয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাহসীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহসীন উগ্রবাদী সংগঠন ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম-এফসিএস’-এর সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন।
ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে এ অভিযান চালানো হয়।
নোয়াপাড়া এলাকার ওহিদুল ইসলামের ছেলে ১৯ বছর বয়সী তাহসীনকে গ্রেপ্তারের সময় তার ঘর থেকে চাপাতি, বৈদ্যুতিক তার ও বেশ কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার তথ্যও দিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল বলছেন, ‘ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে তাহসীন ইসলামের নামে মামলা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
‘তাছাড়া তার বিরুদ্ধে আগে দায়ের হওয়া একটি ডাকাতির মামলাও রয়েছে। তিনি ওই মামলার তিন নম্বর আসামি।’
এ পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘তাহসীন ‘উগ্রবাদী সংগঠন ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম-এফসিএসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ‘স্বীকার’ করেছেন।
‘তবে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোরে সংগঠনটির কোনো সক্রিয় সদস্য বা সাংগঠনিক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়নি।’
এর আগে গত রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকা থেকে উগ্রবাদী সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুলনাভিত্তিক মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ (এফসিএস)-নামে একটি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্র ও শিক্ষক বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলছেন, ‘মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে তরুণদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করে আসছিল ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’।’
যাত্রাবাড়ীর ঘটনার পর থেকেই এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পেতে শুরু করে পুলিশ।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাহসীন ইসলামকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন।
এসএ